বিধানসভায় আলাদা ঘর ও সময় পাচ্ছে কালীঘাট তৃণমূল শিবির! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে। বিধানসভায় ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়কদের জন্য আলাদা বসার ঘর এবং অধিবেশন চলাকালীন নিজস্ব বক্তব্য পেশের জন্য পৃথক সময় বরাদ্দ করা হচ্ছে। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই শিবিরের নেতাদের একটি বৈঠক হয়। সেখানে প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের সঙ্গে আলোচনার পর এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রীকে নিজেদের সুনির্দিষ্ট দাবির কথা জানানোর পর বসার জায়গা, আলাদা ঘর এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ে বিস্তারিত ও সদর্থক আলোচনা হয়েছে।
আসন বিন্যাস ও রাজনৈতিক ক্ষোভ
এবারের অধিবেশনে কক্ষের আসন বিন্যাসেও বিশেষ পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। প্রবীণতম বিধায়ক হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পূর্ণ সম্মান দিয়ে চিরাচরিতভাবে বিরোধী দলনেতার জন্য নির্দিষ্ট আসনটি বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে এই নতুন ব্যবস্থার মাঝেও শিবিরের অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভের প্রকাশ ঘটেছে। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ অন্য এক শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে জানান, অনৈতিকভাবে যারা দলকে পিছন থেকে ছুরি মারে, তাদের কোনোভাবেই নেতা বলে মানা হবে না। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সিদ্ধান্তের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বৈঠকের পরেই মুখ্যমন্ত্রী পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষকে ডেকে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ শিবিরের বিধায়কদের জন্য অবিলম্বে একটি আলাদা বসার ঘরের বন্দোবস্ত করার এবং অধিবেশন চলাকালীন তাদের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ করার নির্দেশ দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভার ভেতরে ভিন্ন মতাদর্শের বিধায়কদের যথাযথ স্থান ও সময় দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সুস্থ গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তবে হকার উচ্ছেদের মতো জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছে এই শিবির, যা আগামী দিনে বিধানসভার অধিবেশনে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।
