ফরেন্সিক বিভাগকে পুলিশমুক্ত করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা – এবেলা

ফরেন্সিক বিভাগকে পুলিশমুক্ত করার দাবিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তদন্তের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ এবং সঠিক বিচার সুনিশ্চিত করতে ফরেন্সিক বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ফরেন্সিক বিজ্ঞান গবেষণাগারকে সম্পূর্ণভাবে পুলিশি নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে এই মামলাটি গৃহীতার পর আজ, বৃহস্পতিবারই এর শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। মামলাটিকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আইনি ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

নিরপেক্ষতা রক্ষার লড়াই ও আবেদনকারীর যুক্তি

আবেদনকারীর মূল দাবি, ফরেন্সিক বিভাগের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হলে এই বিভাগের শীর্ষ পদে কোনো পুলিশ অফিসারকে বসানো যাবে না। সংগৃহীত ফরেন্সিক নমুনা পরীক্ষা করে বিশেষজ্ঞরা যে রিপোর্ট দেন, তার ওপর ভিত্তি করেই পুলিশ তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায়। এখন যদি পুলিশ নিজেই ফরেন্সিক বিভাগের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকে, তবে রিপোর্টের বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। আবেদনকারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ফরেন্সিক বিভাগের প্রশাসক বা অন্য কোনো নীতি-নির্ধারণী পদে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক বা বৈজ্ঞানিকদেরই নিয়োগ করা উচিত।

অতীতের বিতর্ক ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজ্য ফরেন্সিক বিভাগের কার্যকারিতা ও স্বাতন্ত্র্য নিয়ে বিতর্ক এই প্রথম নয়। এর আগে পূর্বতন সরকারের আমলে প্রথা ভেঙে একজন আইপিএস অফিসারকে দীর্ঘ সময় ধরে এই বিভাগের প্রশাসক পদে বসিয়ে রাখা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ক্ষোভ। এছাড়া সাম্প্রতিক অতীতে আরজি কর কাণ্ডের সময় সিভিক ভলেন্টিয়ারদের দিয়ে ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহের মতো সংবেদনশীল কাজ করানোর অভিযোগে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বারবার ল্যাবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবার বিষয়টি আদালতের চৌকাঠে পৌঁছাল।

এই মামলার রায়ের ওপর রাজ্যের ভবিষ্যৎ তদন্ত প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করছে। যদি আদালত ফরেন্সিক বিভাগকে পুলিশি নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার নির্দেশ দেয়, তবে প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় বদল আসবে। এর ফলে একদিকে যেমন ফরেন্সিক রিপোর্টের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে অপরাধ দমনে পুলিশ ও বিজ্ঞানীদের কাজের পরিধি ও জবাবদিহিতাও সুনির্দিষ্ট হবে। আজ উচ্চ আদালতে এই মামলার শুনানির দিকে তাই নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *