কিউএস বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ল যাদবপুর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, শীর্ষে আইআইটি খড়গপুর – এবেলা

কিউএস বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে পড়ল যাদবপুর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, শীর্ষে আইআইটি খড়গপুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতির আশার মাঝেই প্রকাশিত হলো ২০২৭ সালের কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিং। বিশ্বমঞ্চে এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রের জন্য মিশ্র ফলাফল সামনে এসেছে। রাজ্যের দুই ঐতিহ্যবাহী ও নামী প্রতিষ্ঠান কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক অবস্থানের উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে। তবে এই হতাশার মধ্যেও আশার আলো দেখিয়েছে আইআইটি খড়গপুর, যা গতবারের চেয়ে নিজের অবস্থান আরও উন্নত করতে সক্ষম হয়েছে।

যাদবপুর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানের পতন

প্রকাশিত আন্তর্জাতিক তালিকা অনুযায়ী, গতবারের তুলনায় এবার অনেকটাই নীচে নেমে গিয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। গতবার এই প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ব তালিকায় ৬৭৬ নম্বরে থাকলেও, ২০২৭ সালের তালিকায় তা ৭২১-৭৩০ নম্বর স্তরে পিছিয়ে গিয়েছে। একইভাবে বড়সড় পতন দেখা গেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও। গতবার যে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৭৭১-৭৮০ নম্বর স্তরে স্থান পেয়েছিল, এবার তা পিছিয়ে গিয়ে ৯০১-৯৫০ নম্বর স্তরে অবস্থান করছে। জাতীয় স্তরেও এর প্রভাব পড়েছে। ভারতের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে যাদবপুর গতবারের ২০ নম্বর স্থান থেকে পিছিয়ে ২৩ নম্বরে এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ২৬ নম্বর থেকে ৩৩ নম্বরে নেমে এসেছে।

আইআইটি খড়গপুরের সাফল্য এবং জাতীয় চিত্র

রাজ্যের দুই প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্ক কমলেও অনন্য নজির গড়েছে আইআইটি খড়গপুর। গতবার বৈশ্বিক তালিকায় ২১৫ নম্বরে থাকা এই প্রতিষ্ঠান এবার এক লাফে ২০৫ নম্বরে উঠে এসেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এটি পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে এবং দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির তালিকায় চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। সামগ্রিকভাবে ভারতের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে আইআইটি দিল্লি (বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ১১৮), এর পরেই রয়েছে আইআইটি বম্বে (১৩৪) এবং আইআইটি মাদ্রাজ (১৩৪)।

অবগতির কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

শিক্ষাবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগিতার অভাব, গবেষণার গুণগত মান, পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলিতে পিছিয়ে থাকার কারণেই রাজ্যের এই দুই শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিংয়ে অবনতি হয়েছে। বিশ্বতালিকায় এভাবে অবস্থান নেমে যাওয়ার ফলে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক স্তরের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে এই দুই প্রতিষ্ঠান বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, যা সামগ্রিকভাবে রাজ্যের উচ্চশিক্ষার ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *