রক্ষকই ভক্ষক! মাদ্রাসার হস্টেলে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতন, শ্রীঘরে খোদ প্রধান শিক্ষক – এবেলা

রক্ষকই ভক্ষক! মাদ্রাসার হস্টেলে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে দিনের পর দিন পাশবিক নির্যাতন, শ্রীঘরে খোদ প্রধান শিক্ষক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কালিয়াগঞ্জ: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই হয়ে উঠল বিভীষিকা! যাঁর হাত ধরে সুস্থ ভবিষ্যৎ গড়ার কথা, সেই ‘রক্ষক’ শিক্ষকের বিরুদ্ধেই উঠল ‘ভক্ষক’ হওয়ার মতো ভয়ংকর অভিযোগ। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জে মাদ্রাসার হস্টেলে এক নাবালিকা ছাত্রীকে দীর্ঘ এক বছর ধরে অকথ্য যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন খোদ প্রধান শিক্ষক। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় গোটা উত্তর দিনাজপুর জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

কী ঘটেছিল মাদ্রাসার হস্টেলে? জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা ওই নাবালিকা নবম শ্রেণির ছাত্রী। পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী হওয়ার সুবাদে গত এক বছর ধরে সে কালিয়াগঞ্জের ওই মাদ্রাসার হস্টেলে থেকেই পড়াশোনা করছিল। মেয়েটির বাবা-মা পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক, কাজের তাগিদে তাঁরা ভিনরাজ্যে থাকেন। তাই ইটাহারের বাসিন্দা দাদুই নাতনির স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে দেখভাল করতেন।

পরিবারের অভিযোগ, বাবা-মায়ের অনুপস্থিতি এবং হস্টেলে অন্যান্য ছাত্রীদের না থাকার সুযোগ নিতেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল রশিদ। জোরপূর্বক দিনের পর দিন ওই নাবালিকার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন তিনি। ভয়ে ও আতঙ্কে দীর্ঘ এক বছর ধরে এই অসহ্য বিভীষিকা মুখ বুজে সহ্য করেছে ওই কিশোরী।

দাদুর অভিযোগ ও অভিযুক্তের আত্মসমর্পণ: অবশেষে আর সহ্য করতে না পেরে দাদুর কাছে সমস্ত নারকীয় যন্ত্রণার কথা খুলে বলে ওই ছাত্রী। নাতনির মুখে এই মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা শুনে গত ১৫ জুন কালিয়াগঞ্জ থানায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন বৃদ্ধ দাদু। তাঁর কড়া দাবি, এই জঘন্য অপরাধের জন্য অভিযুক্তের যেন দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তি হয়।

বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। আইনি চাপ ও পুলিশের জাল গুটিয়ে আসছে বুঝতে পেরে বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি রায়গঞ্জ জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যান অভিযুক্ত আব্দুল রশিদ। তবে শেষরক্ষা হয়নি। অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

কড়া পদক্ষেপ পুলিশের, চিকিৎসাধীন নাবালিকা: রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, ধৃতের বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনের মতো কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য খুব শীঘ্রই তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

বর্তমানে নির্যাতিতা ছাত্রীটি রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) পক্ষ থেকে নিয়মিত তার চিকিৎসার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে এবং ভয়ংকর মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য কাউন্সেলিংয়ের পাশাপাশি সমস্ত রকম আইনি সাহায্যের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। সমাজের এক অন্যতম কারিগর হিসেবে পরিচিত একজন প্রধান শিক্ষকের এমন জঘন্য লালসা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *