বঙ্গোপসাগরে চোখ পাকিস্তানের! চিনা প্রযুক্তির ‘হাঙর’ কতটা উদ্বেগের ভারতের জন্য? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
১৯৭১ সালের পর এই প্রথম বঙ্গোপসাগরে নিজেদের নৌ-উপস্থিতি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে পাকিস্তান। আরব সাগরের গণ্ডি পেরিয়ে পূর্ব দিকে নজর ঘোরানো এই কৌশলগত পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক নিরাপত্তায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মূলত পাকিস্তানের নৌবাহিনীতে চিনা প্রযুক্তির নতুন ‘হাঙর’ (Hangor) শ্রেণির সাবমেরিনের অন্তর্ভুক্তি এই জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে।
কী এই হাঙর এবং কেন তা চিন্তার বিষয়
হাঙর শ্রেণির সাবমেরিনগুলির প্রধান শক্তি হলো এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশান (AIP) প্রযুক্তি। সাধারণ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিনকে শ্বাস নিতে বা ব্যাটারি চার্জ করতে মাঝেমধ্যেই জলের ওপরে বা স্নরকেল গভীরতায় আসতে হয়। কিন্তু এআইপি প্রযুক্তির সাহায্যে হাঙর সাবমেরিন টানা কয়েক সপ্তাহ জলের তলায় আত্মগোপন করে থাকতে পারে। ফলে রাডার বা নজরদারি এড়িয়ে বহুদূর পর্যন্ত নিভৃতে অভিযান চালানো সম্ভব। ২০১৫ সালে চিনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে মোট আটটি এমন সাবমেরিন সংগ্রহের পথে হেঁটেছে পাকিস্তান, যার পিছনে চিনের সরাসরি প্রযুক্তিগত সহায়তা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর ঐতিহ্যগতভাবে ভারতের প্রভাবাধীন এলাকা হওয়ায়, সেখানে এমন আধুনিক সাবমেরিনের উপস্থিতি ভারতের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় মাথাব্যথার কারণ।
বাংলাদেশের ভূমিকা ও ভারতের সম্ভাব্য প্রভাব
বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের এই সম্ভাব্য উপস্থিতির নেপথ্যে বাংলাদেশের ভূমিকা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক যোগাযোগ কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ায়, চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানের সাবমেরিন লজিস্টিক সহায়তা বা প্রবেশাধিকার পেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। এমনটি হলে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের পক্ষে দীর্ঘ সময় অবস্থান করা অনেকটাই সহজ হবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের ওপর। ভারতের পূর্ব উপকূল, আন্দামান-নিকোবর ঘাঁটি এবং বাণিজ্যিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় ভারতকে আরও বেশি নজরদারি বাড়াতে হবে। সংখ্যার বিচারে ভারতীয় নৌবাহিনী পাকিস্তানের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও, ভারতের কালভারি শ্রেণির প্রচলিত সাবমেরিনগুলোতে এখনও এআইপি প্রযুক্তি পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
অবশ্য এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতও বসে নেই। পি-৮আই (P-8I) দীর্ঘপাল্লার সামুদ্রিক নজরদারি বিমান, উন্নত সোনার নেটওয়ার্ক এবং অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার (ASW) হেলিকপ্টার দিয়ে ভারত নিজেদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সুদৃঢ় করছে। পাশাপাশি, প্রজেক্ট ৭৫(আই)-এর মতো মেগা প্রকল্পের অধীনে নতুন সাবমেরিন নির্মাণের কাজও এগোচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজস্ব ঘাঁটি থেকে এত দূরে লজিস্টিক ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের স্থায়ী অবস্থান বেশ কঠিন। তবে চিনের মদতপুষ্ট পাকিস্তানের এই প্রতীকী বা নিয়মিত টহলদারি ভারতের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা, যা আগামী দিনে এই অঞ্চলে সামুদ্রিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলবে।
