ঋতব্রতর বিরোধী দলনেতা পদ কি থাকবে? আজই রায় দেবে কলকাতা হাইকোর্ট! – এবেলা

ঋতব্রতর বিরোধী দলনেতা পদ কি থাকবে? আজই রায় দেবে কলকাতা হাইকোর্ট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কি শেষ পর্যন্ত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে পারবেন, নাকি তাঁকে এই পদ ছাড়তে হবে—তার ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে আজই। স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল এই মামলায় আজ বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে এই রায়দানের ওপরই এখন নির্ভর করছে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ।

বিতর্কের সূত্রপাত ও আইনি জটিলতা

ঘটনার সূত্রপাত শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ফাটল থেকে। দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের দলনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রাথমিকভাবে ৫৮ জন এবং পরবর্তীতে ৬৫ জন বিধায়কের সমর্থন দাবি করে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার আবেদন জানানো হলে স্পিকার রথীন্দ্র বসু তাকে স্বীকৃতি দেন। অথচ, তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছিল। শাসক দলের সেই প্রথম আবেদনকে গুরুত্ব না দিয়ে কীভাবে একজন বহিষ্কৃত বিধায়ককে স্পিকার এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বেছে নিলেন, তা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলে আদালতে মামলা দায়ের করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট স্পিকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক কড়া প্রশ্ন তুলেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও স্পিকার দু’পক্ষকে ডেকে শুনানির মাধ্যমে প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি অনুসরণ করেননি। শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবিতে এবং ১ জুনের বহিষ্কারের চিঠি পাওয়ার পর কীভাবে সেই বহিষ্কৃত ব্যক্তিকেই তড়িঘড়ি বিরোধী দলনেতা করা হলো, তা নিয়ে আইনি বৈধতার প্রশ্ন উঠেছে। আজ হাইকোর্টের রায় যদি স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে যায়, তবে ঋতব্রতকে পদ খোয়াতে হবে, যা বিদ্রোহী শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হবে এবং তৃণমূলের মূল অংশ আইনি জয় পাবে। অন্যদিকে, রায় ঋতব্রতের পক্ষে গেলে তা রাজ্যের রাজনীতিতে বিদ্রোহী ব্লকের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *