১০০ টাকার নিচে কি নামবে পেট্রোল? যুদ্ধ থামতেই ১ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে ভারতের পথে ট্যাঙ্কার – এবেলা

১০০ টাকার নিচে কি নামবে পেট্রোল? যুদ্ধ থামতেই ১ কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে ভারতের পথে ট্যাঙ্কার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বহুল প্রতিক্ষীত শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে বিশ্ব অর্থনীতি। অবসান ঘটেছে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ টানাপোড়েন ও যুদ্ধের আবহ কাটিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি আবার উন্মুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে দ্রুত কমতে শুরু করেছে অপরিশোধিত ক্রুড তেলের দাম। এই ইতিবাচক পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতের বাজারেও, যার ফলে দীর্ঘদিনের মহার্ঘ্য পেট্রোল-ডিজেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভারতের উপকূলে তেলের ট্যাঙ্কার এবং জ্বালানি সংকট দূরীকরণের সম্ভাবনা

হরমুজ প্রণালী খুলে যাওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) ব্যারেল তেল বোঝাই একাধিক বিশালাকার ট্যাঙ্কার। যার মধ্যে ইরানের বিভিন্ন বন্দর থেকে ১২টি, সৌদি আরব থেকে ৪টি ট্যাঙ্কার এবং কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে আরও একটি জাহাজ ভারতের উপকূলে আসার জন্য রওনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারত তার জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে মেটায়। সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশে যে তীব্র সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বিপুল পরিমাণ এই আমদানির ফলে তা দ্রুত কেটে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ব্যারেল প্রতি ৭৭ ডলারে নেমে আসার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে দিল্লির তৎপরতা ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে এতদিন আমেরিকাসহ বিকল্প উৎস থেকে চড়া দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছিল নয়াদিল্লি, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করেছিল। এই বিপর্যয় কাটিয়ে বাজারকে স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক স্তরে চরম তৎপরতা শুরু করেছে ভারত সরকার। আগামী সপ্তাহেই ভারতে আসছেন ইরানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী মহোসেন পাকনিজাদ। ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে তাঁর একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এর পাশাপাশি দিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকসের (BRICS) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা স্তরের বৈঠকের ফাঁকেই ভারত, ইরান, রাশিয়া ও চিন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক আলোচনায় বসবে। এই সমস্ত কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার মূল লক্ষ্যই হলো মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগের মতো সুলভে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করা, যা দেশের সাধারণ মানুষকে সস্তা পেট্রোলিয়াম পণ্যের সুবিধা দিতে সাহায্য করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *