মোদির অনুপ্রেরণায় ‘ধুরন্ধর’ ছবির চিত্রনাট্য, জল্পনা উড়িয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা রাকেশ বেদী – এবেলা

মোদির অনুপ্রেরণায় ‘ধুরন্ধর’ ছবির চিত্রনাট্য, জল্পনা উড়িয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা রাকেশ বেদী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বক্স অফিসে তুমুল ঝড় তোলার পাশাপাশি দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে ‘ধুরন্ধর’ ফ্র্যাঞ্চাইজির দুটি ছবিই। তবে সাফল্যের সমান্তরালে এই ছবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিশেষ করে প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের দাবি, ভারতের শাসকদলের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই তৈরি হয়েছে ছবির গল্প। এমনকি খোদ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর (পিএমও) থেকে এই চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে বা অনুপ্রাণিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই দীর্ঘকালীন চর্চা ও বিতর্কের মাঝেই এবার মুখ খুললেন ছবির অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র ‘জামিল জামালি’ খ্যাত অভিনেতা রাকেশ বেদী।

দিল্লিতে আয়োজিত ‘অমৃত রত্ন ২০২৬’ সামিটে যোগ দিয়ে এই সমস্ত দাবি ও জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেতা। তিনি স্পষ্ট জানান, ছবি সুপারহিট হওয়ার পর কিছু মানুষ বলতে শুরু করেন যে চিত্রনাট্যটি প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা অনুপ্রাণিত কিংবা তিনি নিজেই এটি লিখে দিয়েছেন। এই দাবিকে ভ্রান্ত ও হাস্যকর আখ্যা দিয়ে রাকেশ বেদী প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এমন কোনো ব্যক্তি আছেন কি যিনি এই ধরনের সিনেমাটিক লাইন লিখতে পারেন বা এমন কিছু ভাবতেও পারেন?

বিতর্কের কারণ ও রাজনৈতিক সংযোগ

‘ধুরন্ধর’ ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে বিতর্ক তৈরির মূল কারণ হলো সিনেমাটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নোটবন্দিসহ বিভিন্ন সময়ের বেশ কিছু বাস্তব বক্তৃতার অংশ সরাসরি ব্যবহার করা হয়েছে। সুকৌশলে বিভিন্ন সংলাপের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে পাকিস্তানবিরোধী বার্তা দেওয়ার অভিযোগও ওঠে ছবিটির বিরুদ্ধে। সিনেমার এই রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ ও ‘প্রোপাগন্ডা’ তকমা নিয়ে খোদ বলিউডের অন্দরেও মতভেদ তৈরি হয়েছিল, যেখানে অভিনেতা হৃতিক রোশনের মতো ব্যক্তিত্বরাও আপত্তি প্রকাশ করেছিলেন।

অভিনব উপস্থাপন ও সম্ভাব্য প্রভাব

স্পাই থ্রিলারের চেনা ছকের বাইরে গিয়ে এই ছবিতে কিছুটা হাস্যরস যোগ করা হয়েছিল অভিনেতা রাকেশ বেদীর অনুরোধেই। পরিচালক আদিত্য ধর প্রথমে এতে রাজি না হলেও, পরবর্তীতে ‘জামিল জামালি’ চরিত্রের এই কমিক টাইমিং দর্শকমহলে দারুণ সাড়া ফেলে। রাজনৈতিক বিতর্ক সত্ত্বেও টানটান উত্তেজনা আর নিখুঁত নির্মাণের কারণে দর্শক ছবিটি লুফে নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অভিনেতার এই স্পষ্টীকরণের ফলে ছবিটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রোপাগন্ডা বিতর্কের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে বাস্তব রাজনৈতিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে তৈরি বাণিজ্যিক সিনেমার গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে সিনেপ্রেমী এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনা জারি থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *