খাদ্য দফতরে বসেই বরুণকে খুনের ছক! সুবিচার চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ পরিবার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পদত্যাগের পরেই ফের একবার চর্চায় সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘ সময় পর এই হত্যারহস্যের তদন্ত মামলা পুনরায় শুরু করতে মুখ্যমন্ত্রী এবং বনগাঁর পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছে নিহতের পরিবার। বরুণের দাদা অসিত বিশ্বাসের বিস্ফোরক দাবি, তাঁর ভাইয়ের হত্যার ষড়যন্ত্রে সরাসরি যুক্ত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এমনকি কামদুনি কাণ্ডের ফাইল খুললে প্রাক্তন মন্ত্রী ফেঁসে যেতে পারেন বলে দাবি করেছেন সেই ঘটনার নির্যাতিতার ভাইও।
খাদ্য দফতরে বসে খুনের নীল নকশা
অসিত বিশ্বাসের অভিযোগ অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে তাঁরা এক দমবন্ধ করা পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন এবং আগের তদন্ত প্রক্রিয়া সঠিক পথে এগোয়নি। তাঁর সরাসরি অভিযোগ, খাদ্য দফতরে বসে তৎকালীন সহায়ক জ্ঞানেশ নারায়ণ গুহর সঙ্গে মিলে বরুণকে খুনের পরিকল্পনা করেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। অভিযোগের মাত্রা বাড়িয়ে তিনি দাবি করেন, গুলি চালানোর এক মিনিটের মধ্যেই আততায়ী এনামুলকে ফোন করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, গুলিবিদ্ধ বরুণকে যাতে কেউ হাসপাতালে নিয়ে যেতে না পারে, তার জন্য ঘটনাস্থলের কিছুটা দূরে জমায়েত করা দুষ্কৃতীরা তাঁকে ঘিরে রেখেছিল। বর্তমানে পরিস্থিতির বদল হওয়ায় সঠিক তদন্তের আশায় তাঁরা ফের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
তদন্তের সম্ভাব্য প্রভাব ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলার ফাইল নতুন করে খোলা হলে রাজ্য রাজনীতিতে তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, এই তদন্তে প্রাক্তন মন্ত্রীর নাম সরাসরি যুক্ত থাকায় শাসকদলের ওপর নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয়ত, কামদুনি বা সুটিয়ার মতো রাজ্যের আলোচিত অপরাধমূলক ঘটনাগুলির পূর্ববর্তী তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হবে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে এখন এই পুরনো মামলাগুলি পুনরায় সচল হলে তা প্রশাসনের আইনি নিরপেক্ষতা প্রমাণের ক্ষেত্রে একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। প্রশাসন এই আবেদনে সাড়া দিয়ে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
