আপদ বিদায় হলেও বিপদ বেড়েছে! ত্রিপুরায় বঙ্গ রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক সেলিম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণের বদলে নতুন সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। ত্রিপুরায় সিপিআই(এম)-এর দুই দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠকে যোগ দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ঠিক এই ভাষাতেই তীব্র সমালোচনা করলেন দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর স্পষ্ট দাবি, রাজ্যে আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপরাধীরাই রাজনৈতিক আশ্রয় পাচ্ছে। রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, আগের আপদ বিদায় নিলেও বর্তমানের বিপদ আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে।
দলবদল কেবল ক্ষমতার কেন্দ্রবদল
তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ সাংসদ ও নেতার দলত্যাগের বিষয়টিকে নিছকই ক্ষমতার কেন্দ্র বদলের প্রক্রিয়া বলে আখ্যা দিয়েছেন সেলিম। তিনি মনে করেন, এটি কোনো আদর্শগত রাজনৈতিক বিদ্রোহ নয়, বরং নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার কৌশল মাত্র। এই ধরনের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলিকে তিনি ‘অস্থায়ী ব্যবস্থা’ হিসেবে কটাক্ষ করেছেন। এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় এবং শ্রমিক, কৃষক ও বেকারদের স্বার্থ রক্ষায় তিনি সংসদে ও সংসদের বাইরে বৃহত্তর বিজেপি-বিরোধী সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। এর প্রভাব হিসেবে আগামী দিনে বিরোধী দলগুলির মধ্যে বৃহত্তর জোট বা ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক আন্দোলনের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বামেদের আত্মবিশ্লেষণ ও ঘুরে দাঁড়ানোর কৌশল
বৈঠকে বামেদের অতীত সাফল্য সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও কেরলে ভোটারদের আস্থা হারানোর কারণ নিয়ে গভীর পর্যালোচনা করা হয়। সিপিআই(এম)-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবী জানান, আগামী ১৮ থেকে ১৯ মাসের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে। মূলত বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনৈতিক নীতির মতো জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলিকে হাতিয়ার করে জনসংযোগ ও আন্দোলনের পথে হাঁটতে চাইছে বাম নেতৃত্ব। এই সাংগঠনিক রদবদল এবং গণ-আন্দোলনের কৌশল সফল হলে তা নিচুতলার কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি বামেদের হারানো ভোটব্যাঙ্ক পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
