২০ সাংসদের পদ খারিজের আর্জি নিয়ে স্পিকারের দরবারে অভিষেক, অস্বস্তিতে বিদ্রোহীরা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলে বড়সড় ভাঙন এবং ২০ জন সাংসদের নয়া দল ‘এনসিপিআই’-তে যোগ দেওয়ার জেরে কড়া আইনি পদক্ষেপ করল তৃণমূল। শুক্রবার দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তিন হেভিওয়েট সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনকে সঙ্গে নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের পদ অবিলম্বে খারিজ করার দাবিতে স্পিকারের কাছে ২০টি আলাদা ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন জমা দিয়েছেন তিনি।
সংবিধান ও আইনি যুক্তি
স্পিকারের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠকে তৃণমূলের তরফে মূলত সংবিধানের দশম তফসিলের আইনি দিকগুলো তুলে ধরা হয়। অভিষেকের যুক্তি, এই তফসিলে স্পষ্ট বলা রয়েছে যে, দলত্যাগী সাংসদদের পদক্ষেপ বৈধ হতে গেলে মূল রাজনৈতিক দলের দুই-তৃতীয়াংশকে অন্য দলের সঙ্গে মিশে যেতে বা ‘মার্জ’ করতে হবে। কেবল সংসদীয় দলের একাংশ বেরিয়ে গিয়ে আলাদা ব্লক, আলাদা দলনেতা বা চিফ হুইপ তৈরি করতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের উল্লেখ করে তিনি স্পিকারকে জানান, নির্দিষ্ট দলীয় প্রতীকে জিতে এসে অন্য দলে যোগ দেওয়ার অর্থ স্বেচ্ছায় মূল দলের সদস্যপদ ত্যাগ করা, যা সরাসরি সদস্যপদ খারিজের শর্তের আওতায় পড়ে।
বিদ্রোহীদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিদ্রোহী সাংসদদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন, সাহস থাকলে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে তাঁরা যেন নতুন করে মানুষের ভোটে দাঁড়ান। প্রতিটি ২০-২১ পাতার পিটিশনে অভিষেক নিজেই স্বাক্ষর করেছেন। এই কড়া পদক্ষেপের ফলে বিদ্রোহী সাংসদদের আইনি ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আপাতত স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ল। লোকসভার স্পিকার গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং তাঁদের ফের তলব করার আশ্বাস দিয়েছেন। আগামী দিনে দলত্যাগ বিরোধী আইনে এই ২০ জনের সাংসদ পদ খারিজ হলে তা জাতীয় রাজনীতিতে এক বড়সড় প্রভাব ফেলবে।
