নিখোঁজ স্ত্রীকে না পেলে আত্মহত্যার হুমকি স্বামীর, তদন্তে ফাঁস হাড়হিম করা অনার কিলিং! – এবেলা

নিখোঁজ স্ত্রীকে না পেলে আত্মহত্যার হুমকি স্বামীর, তদন্তে ফাঁস হাড়হিম করা অনার কিলিং! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

টানা দু’মাস ধরে নিখোঁজ স্ত্রীর সন্ধানে এক স্বামীর মরিয়া লড়াই এবং আত্মহত্যার হুমকির জেরে প্রকাশ্যে এল বিহারের মুজাফফরপুরের এক মর্মান্তিক ঘটনা। ভিনজাতে বিয়ে করার ‘অপরাধে’ ১৯ বছর বয়সী সুজাতা কুমারীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে প্রমাণ লোপাটের জন্য পুড়িয়ে দিল তাঁর নিজের পরিবারই। স্বামীর নাছোড়বান্দা জেদ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সুবিচারের দাবির মুখে পড়ে পুলিশি তদন্ত শুরু হতেই এই হাড়হিম করা ‘অনার কিলিং’ বা সম্মান রক্ষার্থে খুনের ছক সামনে আসে।

পরিবারের সম্মান রক্ষার নামে নৃশংসতা

স্কুলজীবনের দীর্ঘ ছ’বছরের প্রেম পরিণতি পেয়েছিল চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে। দুই পরিবারের প্রবল আপত্তি অগ্রাহ্য করে বাড়ি থেকে পালিয়ে হরিয়ানায় সংসার পেতেছিলেন প্রতিবেশী গ্রামের দুই বাসিন্দা সুজাতা ও গৌরীশঙ্কর। কিন্তু ভিনজাতের এই বিয়ে মেনে নিতে পারেনি সুজাতার পরিবার। গৌরীশঙ্করের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা দায়ের হলে আইনি জটিলতায় সুজাতাকে সাময়িকভাবে বাপের বাড়িতে ফিরতে হয়। আদালতে দাঁড়িয়ে প্রাপ্তবয়স্ক সুজাতা স্বামীর সঙ্গে থাকার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তিনি ফের স্বামীর কাছে পালিয়ে যেতে পারেন, মূলত এই আক্রোশ ও সম্মানহানির ভয় থেকেই তাঁকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে তাঁর পরিবার।

স্বামীর লড়াই ও পুলিশের পদক্ষেপ

গত ৩১ মার্চ স্বামীর সঙ্গে শেষ কথা বলার পরই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান সুজাতা। শ্বশুরবাড়ির দিক থেকে কোনও সদুত্তর না পেয়ে গৌরীশঙ্কর পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়ে আত্মহত্যার হুমকি দেন। এই লাগাতার চাপের মুখে মুজাফফরপুর প্রশাসন বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। তদন্তে নেমে সুজাতার ভাই অভিষেককে জেরা করতেই খুনের কথা স্বীকার করে সে। পুলিশ জানিয়েছে, গত ৮ মে সুজাতাকে খুনের পর বুড়ি গণ্ডক নদীর তীরে তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সমাজে জাতপাতের অন্ধকারের দিকটিকে ফের উন্মোচন করেছে এবং এমন নির্মম পরিণতিতে স্তম্ভিত গোটা এলাকা। মূল অভিযুক্ত ভাই গ্রেফতার হলেও এই ঘটনায় জড়িত বাকি পলাতকদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *