দলত্যাগীদের আসলে ‘সেফটি ভাল্ব’ করে দিয়েছে বিজেপি! বিস্ফোরক অধীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ক্রমশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে বিদ্রোহ। একের পর এক নেতার দলত্যাগের জেরে শাসক শিবিরের ভিত নড়বড়ে হতে শুরু করেছে। এই রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ নেতাদের তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করলেন বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর দাবি, এই বিদ্রোহীদের আসল লক্ষ্য আসলে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করা এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতে বিজেপিই এদের জন্য ‘সেফটি ভাল্ব’ তৈরি করে দিয়েছে।
ইতিমধ্যেই তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই নামক নতুন দলে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি, ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষুব্ধ বিধায়ক বিধানসভায় পৃথক ‘ব্লক’ গঠন করে মূল তৃণমূল প্রতীকের দাবিদার হয়েছেন। এই দলবদল ও অন্তর্দ্বন্দ্বের আবহেই তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় পক্ষকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন অধীর চৌধুরী।
বিদ্রোহীদের ‘সেফটি ভাল্ব’ তত্ত্ব ও পিএসসি বিতর্ক
তৃণমূলের এই ভাঙনকে কটাক্ষ করে অধীর চৌধুরী বলেন, তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আসলে বিজেপির হাত থেকে বাঁচার একটি কৌশল। তাঁর দাবি, যেসব বিদ্রোহী নেতা বিজেপিতে যেতে চান কিন্তু বিজেপি সরাসরি তাঁদের গ্রহণ করতে পারছে না, তাঁদের জন্যই বিজেপি এই ‘সেফটি ভাল্ব’ বা বিদ্রোহী গোষ্ঠী তৈরি করে দিয়েছে। এর ফলে ওই নেতাদের বিরুদ্ধে আর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কোনো তল্লাশি বা বুলডোজার নীতি কার্যকর হবে না, বরং তাঁরা একটি নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে গেলেন।
পাশাপাশি, প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে পাবলিক সার্ভিস কমিশন বা পিএসসির চেয়ারম্যান পদে বসানোর প্রস্তাব নিয়েও সরব হন তিনি। এই প্রসঙ্গে বাম ও তৃণমূল আমলের উদাহরণ টেনে অধীরবাবু বলেন, পশ্চিমবঙ্গে দলত্যাগীদের বা ‘গদ্দার’দের পুরস্কৃত করার যে ট্র্যাডিশন ছিল, বর্তমান বিজেপি আমলেও তার কোনো পরিবর্তন হয়নি। মুকুল রায় বা মানস ভুঁইয়ার মতো দলত্যাগীদের যেভাবে অতীতে পিএসসি চেয়ারম্যান করা হয়েছিল, এবারও সেই একই ধারার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
পশ্চিমবঙ্গ দিবস ও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ
২০ জুন তারিখটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসেবে পালন করার বিজেপি সরকারের প্রচেষ্টাকেও তীব্র আক্রমণ করেছেন এই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা। তাঁর মতে, বঙ্গভঙ্গ বাংলার মানুষের কাছে একটি বেদনার ইতিহাস। সেই দুঃখের দিনটিকে আনন্দের উৎসবে রূপান্তরিত করার অর্থ হলো ইতিহাসকে সম্পূর্ণ বিকৃত করা। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তিনি একজন জ্ঞানী ব্যক্তি হতে পারেন, কিন্তু ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগ ছিল না। যদি ২০ জুনকে পশ্চিমবঙ্গের স্বাধীনতা দিবস বলা হয়, তবে ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের গুরুত্ব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পাল্টা আক্রমণে বিজেপি
অধীর চৌধুরীর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর পাল্টা জবাব দিতে ছাড়েনি বিজেপি শিবির। বিজেপির জেলা নেতা শাঁখারভ সরকার ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি অভিযোগ করেন, অধীরবাবু নিজে যখন জেলা কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন, তখন দলের অফিশিয়াল প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়েছিলেন; সেটি ‘গাদ্দারি’ ছিল কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি বাম আমলে সমস্ত জেলা পরিষদ বামেদের দখলে থাকলেও মুর্শিদাবাদ কেন কংগ্রেসের হাতে ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অধীর চৌধুরীকেই সে আমলের ‘সেফটি ভাল্ব’ বলে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা। অন্যদিকে, বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি মলয় মহাজন জানান, অধীর চৌধুরীর বক্তব্যের কোনো সারবত্তা নেই এবং তিনি যখন যা মনে হয় বলে যান।
