‘মুসলিম ভোট কাটতে বিজেপির স্পনসর হুমায়ুন!’ সরকারি মঞ্চে বিধায়ক-মন্ত্রীকে দেখেই বিস্ফোরক অধীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বহরমপুর: মুর্শিদাবাদে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-এর সরকারি অনুষ্ঠানে বিজেপি মন্ত্রীর সঙ্গে একই মঞ্চে হুমায়ুন কবীর! আর এই দৃশ্য দেখেই তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। রবিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাঁর বিস্ফোরক দাবি, হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ আদতে বিজেপিরই স্পনসর করা একটি দল!
শনিবার মুর্শিদাবাদের ওই অনুষ্ঠানে নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী গৌরী শঙ্কর ঘোষকে একসঙ্গে দেখা যায়। এরপরই রাজনৈতিক পারদ চড়ান অধীর।
কী অভিযোগ অধীর চৌধুরীর?
- ভোট কাটার রাজনীতি: অধীরের দাবি, “মুসলিম ভোট কাটার জন্যই হুমায়ুনকে রক্ষা করছে বিজেপি। হিন্দু ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে বিজেপি ভোট নিচ্ছে, আর মুসলিম ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট টানছেন হুমায়ুন। তাই ওঁদের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব নেই।”
- বাবরি মসজিদ নিয়ে কটাক্ষ: তিনি বলেন, “বাবরি মসজিদ নিয়ে এত আলোচনা হলেও প্রস্তাবিত নির্মাণস্থলে কোথাও লেখা নেই যে ওখানে মসজিদ তৈরি হবে। রাজ্যে এখন বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার, তারা কখনও এখানে বাবরি মসজিদ হতে দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি না। এটা স্রেফ ছলনা।”
- অন্যান্য ইস্যু: এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গার্ডেনরিচ সফর, যোগ দিবস নিয়ে বিজেপির কৃতিত্ব দাবি এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম না মেনে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাক করা নিয়েও কেন্দ্রের কড়া সমালোচনা করেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
পাল্টা জবাব হুমায়ুন ও বিজেপির:
অধীরের এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর পাল্টা যুক্তি, “আমার দলের সঙ্গে বিজেপির সেটিং থাকলে রাজ্যে তারা ক্ষমতায় আসার পর আমার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হল কেন? জেলাশাসকের আমন্ত্রণেই আমি সরকারি কর্মসূচিতে গিয়েছিলাম।” তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বরই মসজিদের শিলান্যাস হয়েছে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে এর কাজ সম্পূর্ণ হবে।
অন্যদিকে, বিজেপির মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সৌমেন মণ্ডল বলেন, “সরকারি অনুষ্ঠানে জেলাশাসক সব বিধায়ককেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তৃণমূল বিরোধীদের সম্মান না দেওয়ার যে অপসংস্কৃতি শুরু করেছিল, বিজেপি সরকার সেই পথে হাঁটে না। তাই সৌজন্য বজায় রেখেই হুমায়ুন কবীরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।”
