‘দলত্যাগীদের ৪০ কোটির ডিল!’ মহুয়ার বিস্ফোরক অভিযোগে আইনি নোটিশের হুঁশিয়ারি শতাব্দী-কাকলিদের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তৃণমূলে ভাঙনের পর এবার চরমে উঠল রাজনৈতিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি! ২০ জন তৃণমূল সাংসদ দল ছেড়ে এনসিপিআই-তে (NCPI) যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে ‘টাকা খেয়ে’ দল ছাড়ার মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন তিনি। আর এই মন্তব্যের জেরে এবার মহুয়াকে আইনি নোটিশ পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিলেন বিক্ষুব্ধ সাংসদ শতাব্দী রায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা।
কী অভিযোগ মহুয়ার? সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে মহুয়া দাবি করেন, দলত্যাগী সাংসদরা রাজনৈতিক অবস্থান বদলের জন্য বিপুল অঙ্কের আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন। শিবসেনার ভাঙনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, মহারাষ্ট্রে যেখানে ১৫ কোটির অভিযোগ উঠেছিল, সেখানে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যাওয়ার জন্য সাংসদরা নাকি ৪০ কোটি টাকার চুক্তি করেছেন! তাঁর দাবি, দলত্যাগীরা ৪ কোটি টাকা অগ্রিম নিয়েছেন এবং আগামী ৩৬ মাস ধরে প্রতি মাসে ১ কোটি টাকা করে পাবেন। কালীঘাটে দলনেত্রীর বাড়িতে দলীয় বৈঠকের পরও সংবাদমাধ্যমের সামনে একই অভিযোগ করেন তিনি।
পাল্টা তোপ ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি: বিনা প্রমাণে এই ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য করায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদরা। নিজেদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার অভিযোগে মহুয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলার পথে হাঁটতে চলেছেন তাঁরা। সদ্য দলত্যাগী এই সাংসদরা সম্প্রতি একটি ভার্চুয়াল বৈঠকও করেছেন।
- শতাব্দী রায়ের তোপ: মহুয়াকে একহাত নিয়ে শতাব্দী বলেন, “উনি প্রমাণ ছাড়া কথা বলছেন। তবে একদিন ওকেই প্রমাণ দিতে হবে। হিরানন্দানির থেকে টাকা নিয়ে উনি কী ডিল করেছিলেন এবং কেন তাঁকে সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, তা সারা পৃথিবী জানে।” মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে দলের অন্দরে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
- কাকলি ঘোষ দস্তিদারের হুঁশিয়ারি: এনসিপিআই-এর লোকসভা নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “দেশের সুরক্ষা বিঘ্নিত করে পাসওয়ার্ড দেওয়ার জন্য তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তিনি কত টাকা নিয়ে কী করেছিলেন, তা দেশবাসী জানেন। আর এখন তিনি টাকার অঙ্ক বলে দিচ্ছেন! এর বিরুদ্ধে আমরা ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের এই মেগা ভাঙন ঘিরে শুরু হওয়া রাজনৈতিক তরজা এবার সোজা গিয়ে ঠেকতে পারে আদালতের দরজায়। এখন দেখার, এই ‘মানহানি’র লড়াই আগামী দিনে বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন কী মোড় নেয়।
