ট্রাম্পের হুঙ্কারে পাল্টা তোপ! আমেরিকার সঙ্গে হাত মেলাতে নারাজ ইরান, বয়কট বৈঠক – এবেলা

ট্রাম্পের হুঙ্কারে পাল্টা তোপ! আমেরিকার সঙ্গে হাত মেলাতে নারাজ ইরান, বয়কট বৈঠক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সুইজারল্যান্ড: শান্তি আলোচনার শুরুতেই চরম অশান্তি! সুইজারল্যান্ডে আয়োজিত আমেরিকা ও ইরানের বহুমুখী শান্তি বৈঠকের প্রথম দিনেই পারদ চড়ল চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির কড়া জবাব দিয়ে চরম কূটনৈতিক সংঘাতে জড়াল ইরান। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে হাত মেলাতেও অস্বীকার করে ইরানের প্রতিনিধি দল।

কী নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত? বৈঠক শুরুর কয়েক মিনিট পরেই সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননের হিজবুল্লাকে নিয়ন্ত্রণের বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ইরান যদি ইজরায়েলের ওপর হামলা রুখতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের ওপর গত সপ্তাহের চেয়েও ভয়ংকর এবং বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে।

‘বুঝে কথা বলবেন’, আমেরিকার চোখে চোখ রেখে জবাব ইরানের ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর সুইজারল্যান্ডের আলোচনা কক্ষে রীতিমতো ঝড় ওঠে। ইরানের প্রধান আলোচক মহম্মদ বাঘের গালিবাফ পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমেরিকার উচিত সাবধানে কথা বলা। যেকোনো পরিস্থিতির মোক্ষম জবাব দিতে ইরানের সেনাবাহিনী এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বহর সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

করমর্দন বয়কট ও ওয়াকআউট! ট্রাম্পের এই বার্তার প্রতিবাদে অভাবনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয় তেহরান:

  • ফটোসেশন বাতিল: পূর্বনির্ধারিত সূচি থাকা সত্ত্বেও ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং গালিবাফ মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে করমর্দন (হাত মেলানো) ও সাংবাদিকদের সামনে যৌথ ছবি তোলা বয়কট করেন।
  • ওয়াকআউট: ক্ষুব্ধ ইরানি প্রতিনিধিরা সাময়িকভাবে আলোচনার টেবিল ছেড়ে বেরিয়ে যান এবং সুইস কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদপত্র জমা দেন।

তলে তলে বরফ গলছে? (পেছনের দরজার চুক্তি) বাইরে চরম নাটকীয়তা চললেও, পর্দার আড়ালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সমঝোতাও হয়েছে বলে খবর:

  • তেল রপ্তানিতে ছাড়: দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সরিয়ে ইরানের তেল রপ্তানি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি বিশেষ খসড়া চুক্তি আজকের বৈঠকে চূড়ান্ত হয়েছে বলে দাবি ইরানি সংবাদমাধ্যমের।
  • আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার: কাতারের মধ্যস্থতায় আটকে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পত্তি ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। তবে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের স্পষ্ট শর্ত—এই অর্থ নিঃশর্তে ফেরত না দিলে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না।

আগামী দিনে কী হতে চলেছে? অর্থনৈতিক দিক থেকে কিছু সুবিধা আদায় করলেও, আগামী বৈঠকগুলি ঘিরে ঘোর অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, লেবাননে ইজরায়েলের লাগাতার বিমান ও সেনা অভিযান বন্ধ না হলে আমেরিকার সঙ্গে আর কোনো স্তরেই আলোচনায় বসবে না তারা। যুদ্ধংদেহী আচরণ সরিয়ে দুই দেশ শেষ পর্যন্ত শান্তির পথে হাঁটে কি না, সেদিকেই এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *