‘৪০ কোটিতে বিক্রি ২০ সাংসদ!’ মহুয়ার বিস্ফোরক দাবির পালটা আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি শতাব্দীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: বাংলায় দলের চরম বিপর্যয়ের পর এবার সংসদেও বড়সড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের অন্দরের এই ডামাডোলের মাঝেই এবার প্রকাশ্যে এল ‘বিদ্রোহী’ সাংসদদের সঙ্গে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের তীব্র সংঘাত। ২০ জন সাংসদ দল ছাড়ার নেপথ্যে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন মহুয়া। আর তার পালটা হিসেবে এবার মহুয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি দিলেন বীরভূমের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ শতাব্দী রায়!
তৃণমূলের চরম সংকট ও ২০ সাংসদের দলবদল: বিধানসভায় পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ আগেই হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূল নেত্রীর। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহীরা বসেছেন বিরোধী আসনে। দলের তহবিল কার্যত ফ্রিজ, এমনকি দলের প্রতীক শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে থাকবে, তা নিয়েও তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে যার ফয়সালা আদালতে হতে পারে। এরই মধ্যে লোকসভার বাদল অধিবেশনের আগে তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ একযোগে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ‘এনসিপিআই’ (NCPI) নামক একটি দলে যোগ দিয়েছেন এবং এনডিএ-কে (NDA) সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন।
মহুয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ: দলত্যাগী এই সাংসদদের নিশানা করে সমাজমাধ্যমে মহুয়া মৈত্র মারাত্মক অভিযোগ তুলে দাবি করেন, ৪০ কোটি টাকার বিনিময়ে ওই ২০ জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। মহুয়ার এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একাংশের দাবি, ইডি-সিবিআইয়ের ভয়ে নয়, টাকার লোভেই দল ছেড়েছেন বিদ্রোহীরা। আবার অন্য একটি মহল পালটা প্রশ্ন তুলছে, অতীতে যখন অন্য দল থেকে নেতাদের ভাঙিয়ে তৃণমূলে আনা হতো, তখনও কি এমন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হতো?
আদালতের পথে শতাব্দী? মহুয়ার এই গুরুতর অভিযোগ যে সহজে ধামাচাপা পড়বে না, তা একপ্রকার স্পষ্ট। দলত্যাগী সাংসদ শতাব্দী রায় এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের কথা ভাবছি আমরা। আপাতত এইটুকুই বলতে পারি।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মারাত্মক অভিযোগের পর বিদ্রোহীরা যদি মানহানির মামলা করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের দাবি না জানান, তবে মহুয়ার দাবিই জনমানসে সিলমোহর পাবে। সব মিলিয়ে আগামী দিনে আদালতেই যে শতাব্দী বনাম মহুয়ার মেগা আইনি লড়াই দেখা যেতে চলেছে, সেই জল্পনাই এখন তুঙ্গে।
