বাণিজ্য সম্মেলনের আড়ালে ৩২৪ কোটি লোপাট, বিধানসভায় মমতার ফাইল ফাঁস মুখ্যমন্ত্রীর! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য বিধানসভায় পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে পাহাড়প্রমাণ আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বিধানসভার অধিবেশনে নিজের সরকারের প্রশাসনিক রূপরেখা তুলে ধরার সময় তিনি দাবি করেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের ‘বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন’ বা বিজিবিএস-এর আড়ালে ৩২৪ কোটির বেশি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই বিপুল অঙ্কের টাকা একটি নির্দিষ্ট বণিকসভাকে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সই করা একাধিক গোপন ফাইল এদিন বিধানসভার টেবিলে পেশ করেন তিনি।
বাণিজ্য সম্মেলনের আড়ালে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলায় বিনিয়োগ টানার নামে বছরের পর বছর ধরে আয়োজিত এই সম্মেলনের আড়ালে আসলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি চলেছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করে তিনি জানান, নির্দিষ্ট নিয়ম ভেঙে এবং তৎকালীন অর্থমন্ত্রীকে হাতিয়ার করে পিছনের দরজা দিয়ে দেশের অন্যতম শীর্ষ বণিকসভা ‘ফিকি’ (FICCI)-কে ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এবং আবাস যোজনার মতো একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও তৃণমূল স্তরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ফাইল খোলার হুঁশিয়ারি ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিধানসভার অন্দরে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়কদের তীব্র প্রতিবাদ ও হট্টগোলের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় জানিয়ে দেন যে, এই ঘটনা কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। সরকারি কোষাগারের টাকা নয়ছয়ের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে বিগত জমানার সমস্ত দুর্নীতির ফাইল একে একে খোলার কথা ঘোষণা করেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগ নিছক রাজনৈতিক আক্রমণ নয়। এর ফলে খুব শীঘ্রই বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের যাবতীয় খরচ এবং ফিকি-র ভূমিকা নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে বড়সড় উচ্চপর্যায়ের বা আইনি তদন্ত শুরু হতে পারে, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে চলেছে।
