দল বাঁচাতে আসরে স্বয়ং মমতা! রোজ বসবে ‘জনতার দরবার’, ভরসা নেই আইপ্যাকে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: দলের অভ্যন্তরে অব্যাহত ভাঙন। প্রতিদিন একের পর এক নেতা যোগ দিচ্ছেন বিরোধী (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়) শিবিরে। এই চরম সংকটের মুখে দল ও সংগঠনকে রক্ষা করতে এবার ময়দানে নামলেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসংযোগ বাড়াতে এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে কালীঘাটে এবার থেকে প্রতিদিন ‘জনতার দরবার’ বসাবেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
মমতা ও অভিষেকের ‘জনতার দরবার’:
নেতারা যখন একে একে দল ছাড়ছেন, তখন সাধারণ মানুষ ও তৃণমূল স্তরের কর্মীদের ওপরই ভরসা রাখছেন তৃণমূল নেত্রী।
- কালীঘাটে মমতা: প্রতিদিন দুপুর ৩টে থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নিজের বাসভবনে সাধারণ মানুষ, দলের নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তিনি।
- পার্টি অফিসে অভিষেক: দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তৃণমূলের পার্টি অফিসে এই একই কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি জনসংযোগ সারবেন।
ভাঙন ঠেকাতে নয়া কৌশল:
মমতা-পন্থী শিবিরের মতে, মূলত দুটি উপায়ে— ভয় দেখিয়ে এবং টাকার লোভ দেখিয়ে নেতাদের দলবদল করানো হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে তড়িঘড়ি আদালত বা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হচ্ছে না তৃণমূল। বরং নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত:
- কমিটি গঠনে ধীরগতি: নেতারা যাতে নতুন করে টার্গেট না হন, তার জন্য শীর্ষ নেতৃত্ব বাদে অন্য কোনো কমিটিতে এখনই তাড়াহুড়ো করে কাউকে মনোনীত করা হবে না।
- আইপ্যাকে (I-PAC) অনাস্থা: ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলের একাধিক নেতা ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তাই এখন থেকে এজেন্সির ওপর ১০০ শতাংশ নির্ভর না করে, পুরনো পদ্ধতিতে দলের নিজস্ব সংগঠন মজবুত করার দিকেই কড়া নজর দিচ্ছে ঘাসফুল শিবির।
কুণাল ঘোষের কটাক্ষ:
মমতার এই নয়া রুটিন প্রসঙ্গে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “শুধু ওই কয়েক ঘণ্টার দরবার নয়, মমতাদি রাত দুটো-আড়াইটে পর্যন্ত ফোনে থেকে সব পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন।” পাশাপাশি দলত্যাগীদের নিশানা করে তাঁর কটাক্ষ, ওই নেতারা নিজের এলাকায় যান না এবং নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গেও তাঁদের কোনো যোগাযোগ নেই।
