অনাবৃষ্টির জেরে দেশের ১২ রাজ্যে বিপুল ফসল ক্ষতির আশঙ্কা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চলতি খরিফ মরশুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে দেশের ১২টি রাজ্যে বিপুল ফসল ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, বিহার, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশার মতো রাজ্যগুলিতে বর্ষার ঘাটতি চিন্তায় ফেলেছে কৃষক থেকে শুরু করে প্রশাসনকে। কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই রাজ্যগুলির ১১১টি জেলার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং দেশজুড়ে মোট ৩২৮টি জেলায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ার কারণে অধিকাংশ জায়গায় ধানসহ অন্যান্য খরিফ ফসলের বীজতলা তৈরির কাজ এখনও শুরু করা যায়নি।
উদ্বেগে কেন্দ্র ও ফসলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব
পরিস্থিতি মোকাবিলায় মঙ্গলবার রাতে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সভাপতিত্বে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত দেশে গড়ে ৪৩ শতাংশ বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। মহারাষ্ট্রে বর্ষা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১২ দিন দেরিতে প্রবেশ করেছে, যার ফলে মুম্বইয়ে বৃষ্টি হলেও রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও শুকনো। এই বিপুল অনাবৃষ্টির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে দেশের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনে। ভারতের কৃষি মূলত বৃষ্টি-নির্ভর এবং দেশের মোট খাদ্য চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ ধান এই খরিফ মরশুমেই উৎপাদিত হয়। তবে কেন্দ্রের তরফে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, বর্তমানে দেশে পর্যাপ্ত খাদ্যভাণ্ডার মজুত রয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে কৃষকদের মধ্যে দ্রুত স্বল্প জলে চাষযোগ্য ধানের বীজ বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল
অনাবৃষ্টির এই দেশজোড়া সঙ্কটের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের অন্যান্য অংশের তুলনায় বাংলার অবস্থা ততটা উদ্বেগজনক নয়। রাজ্যের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাতের অভাবে বীজতলা তৈরির কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেলেও, সার্বিক চিত্র এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। ফলে খরিফ মরশুমে রাজ্যের কৃষিকাজে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা আপাতত নেই বলেই সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে।
