চাকরি কি টিকবে? সিভিক ভলান্টিয়রদের ঝাড়াই-বাছাইয়ে কড়া নির্দেশ স্বরাষ্ট্র দফতরের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়রদের (Civic Volunteer) জন্য এবার কড়া পদক্ষেপ নিল স্বরাষ্ট্র দফতর। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়রের যোগ্যতা যাচাই এবং ঝাড়াই-বাছাই করার কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যাঁদের নিয়োগ নিয়ে সংশয় রয়েছে, তাঁদের চাকরি চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কী কী খতিয়ে দেখবে স্বরাষ্ট্র দফতর?
স্বরাষ্ট্র দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মূলত ৪টি বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে এই ভেরিফিকেশন বা যাচাই প্রক্রিয়া চলবে:
- যোগ্যতা ও স্বাস্থ্য: সিভিক ভলান্টিয়রদের শারীরিক সক্ষমতা এবং তাঁরা কতটা সক্রিয়, তা নতুন করে যাচাই করা হবে।
- রাজনৈতিক সুপারিশ: নিয়োগ বা বদলির ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব বা সুপারিশ কাজ করেছে কি না, তা দেখা হবে।
- ধর্মীয় পক্ষপাতিত্ব: ধর্ম দেখে নিয়োগ বা বদলি করা হয়েছে কি না, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হবে।
- কাজের রেকর্ড: গত ২ বছরে সিভিক ভলান্টিয়রদের কাজের পারফরম্যান্স এবং রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
অগ্নিমিত্রা পালের কড়া বার্তা:
এই পদক্ষেপের সমর্থনে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান, এই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, “আজকে সিভিক ভলান্টিয়র পদে পুরোটাই পলিটিক্যাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়েছে। তাঁদের যোগ্যতা বা শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক রয়েছে কি না, তা দেখে নিয়োগ হয়নি।”
নিজের দফতরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যেখানে ৫ জনের প্রয়োজন, সেখানে ৪০০ জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। এই অতিরিক্ত কর্মীরা নিয়মিত কাজে আসেন না, মাঝে মাঝে এসে আড্ডা মেরে চলে যান এবং ৭ দিন আগে থেকেই অগ্রিম সই করে রাখেন। কড়া ভাষায় মন্ত্রী বলেন, “এটা চলতে পারে না। এগুলো পাবলিকের টাকা। বিট সিস্টেমে লোক নেওয়া হবে এবং যাঁরা শেষ কয়েক মাস কাজে আসেননি, তাঁদের ছাঁটাই করতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষণা:
প্রসঙ্গত, রাজ্য বাজেট পেশের পরই একটি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সিভিক ভলান্টিয়রদের নিয়ে এই কড়া পদক্ষেপের আভাস দিয়ে রেখেছিলেন। তিনি আগেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রচুর ‘জল মেশানো’ রয়েছে, তাই এবার বড়সড় ঝাড়াই-বাছাই করা হবে। স্বরাষ্ট্র দফতরের এই নির্দেশিকা মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণারই বাস্তবায়ন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
