সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব? শুরু হচ্ছে মেগা ঝাড়াই-বাছাই! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ এবং কাজের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে এবার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করল স্বরাষ্ট্র দফতর। নতুন নির্দেশিকা জারি করে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের নিয়োগ প্রক্রিয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্মদক্ষতার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নজরে নিয়োগ দুর্নীতি ও কর্মদক্ষতা
সরকারি সূত্রের খবর, সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মানা হয়েছিল কি না এবং নিয়োগ বা বদলির পেছনে কোনও রাজনৈতিক সুপারিশ বা ধর্মীয় পরিচয় কাজ করেছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এই তদন্তের মূল কারণ হল দীর্ঘদিন ধরে চলা স্বজনপোষণ এবং অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁরা নিয়মিত কাজে না এসেও খাতায় কলমে উপস্থিতির প্রমাণ রাখছেন। এই বেনিয়ম রুখতে এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে গত দুই বছরের কাজের রেকর্ড, উপস্থিতি ও শারীরিক সক্ষমতার মূল্যায়ন করা হবে। ইতিমধ্যে ‘বিট সিস্টেম’ চালু করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা কর্মীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক কাঠামোয় সম্ভাব্য প্রভাব
সম্প্রতি রাজ্য বাজেট পেশের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সিভিক ভলান্টিয়ার ব্যবস্থায় থাকা অসঙ্গতিগুলি দূর করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সরকারের এই মেগা পর্যালোচনার ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই সিভিক ভলান্টিয়ারদের কর্মপদ্ধতি, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সার্বিক প্রশাসনিক কাঠামোয় এক বিরাট পরিবর্তন আসতে চলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন অযোগ্য এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের ছেঁটে ফেলা সম্ভব হবে, অন্যদিকে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলারক্ষায় যুক্ত কর্মীদের দায়বদ্ধতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
