আবেগ চেপে রাখাই রণবীরের স্বভাব! অভিনেতার এই ‘নীরবতা’ নিয়ে কী বলছেন মনোবিদরা? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা অনেকটাই বেড়েছে। মনের ভাব বা অনুভূতি সঠিক ভাবে প্রকাশ করতে পারাকে অনেকেই ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’-এর লক্ষণ বলে মনে করেন। তবে, কেউ যদি নিজের আবেগ সহজে মুখে প্রকাশ করতে না পারেন, তার মানেই যে তিনি আবেগহীন বা পাষাণ— এমনটা কিন্তু নয়। সম্প্রতি বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুরের একটি স্বীকারোক্তি এই বিষয়টিকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
কী জানিয়েছেন রণবীর? সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের স্বভাব নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন রণবীর। নিজেকে ‘কম অভিব্যক্তিপূর্ণ’ দাবি করে অভিনেতা বলেন, “আমি নিজের আবেগ সহজে প্রকাশ করতে পারি না। সবকিছু নিজের মধ্যেই চেপে রাখি। কিন্তু এমন নয় যে আমি কিছু অনুভব করি না। আমি খুব গভীর ভাবে সবকিছু অনুভব করি, কিন্তু সেটা সবসময় ভাষায় প্রকাশ করতে পারি না। অনেক সময় আমি শুধু চুপচাপ নিজের সেই অনুভূতিগুলোর সঙ্গে একা বসে থাকি।”
মনস্তত্ত্ব কী বলছে? মনোবিদদের মতে, রণবীরের এই বক্তব্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক বিষয় প্রকাশ্যে এনেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে যেখানে সবকিছু ‘শেয়ার’ করার একটা অলিখিত চাপ রয়েছে, সেখানে অনেকেই নীরবে নিজের আবেগ অনুধাবন করতে পছন্দ করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবেগ প্রকাশ না করার নেপথ্যে মূলত দু’টি মনস্তাত্ত্বিক কারণ থাকতে পারে:
- আবেগ দমন (Suppression): যখন কোনও ব্যক্তি নিজের কষ্ট বা আবেগকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়ার বা অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। অবদমনের এই প্রক্রিয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
- সংযম (Restraint): যখন কোনও ব্যক্তি তাঁর আবেগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন, কিন্তু দৈনন্দিন কাজকর্ম বা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তা সাময়িক ভাবে প্রকাশ করেন না। যেমন— ব্যক্তিগত জীবনে ঝড় বয়ে গেলেও কর্মক্ষেত্রে নিজেকে শক্ত রাখা। এটি আসলে একটি বিশেষ মানসিক দক্ষতা।
অনেক সময়ই আমরা কারও নীরবতাকে ‘আবেগহীনতা’ বা অহংকার বলে ভুল করি। কিন্তু মনোবিজ্ঞান বলছে, এই ধরনের নীরবতা বা চুপ থাকার অভ্যাস আসলে আবেগ ও অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করার একটি নিজস্ব ‘কোপিং মেকানিজ়ম’ বা আত্মরক্ষার উপায় হতে পারে।
