ইতিহাসে প্রথমবার! নবম শ্রেণির পাঠ্যবইতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে জরুরি অবস্থার কালো অধ্যায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
স্বাধীন ভারতের ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের ‘জরুরি অবস্থা’ এবার পড়তে চলেছে হাই স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এতকাল যা শুধুমাত্র দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এবার জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় নবম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইতে অন্তর্ভুক্ত করল এনসিইআরটি (NCERT)। জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৫১ বছর পর এই প্রথম হাই স্কুলের স্তরে বিষয়টি নিয়ে আসা হলো।
গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলগুলোতে আসতে চলা ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি, ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড পার্ট ১’ বইটির ষষ্ঠ অধ্যায়ে জরুরি অবস্থার বিস্তারিত বিবরণ থাকছে। পাঠ্যবইটিতে এই সময়কালকে ভারতীয় গণতন্ত্রের সামনে আসা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশ্লেষণ করা হয়েছে জরুরি অবস্থা জারির পেছনের কারণগুলো। সত্তরের দশকের শুরুতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং দুর্নীতি কীভাবে দেশজুড়ে গণবিক্ষোভের রূপ নিয়েছিল, তা বইটিতে স্পষ্ট করা হয়েছে। এরপর ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগ’-এর কারণ দেখিয়ে ১৯৭৫ সালের জুন মাসে কীভাবে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, সে কথাও উল্লেখ রয়েছে।
সিলেবাসে রদবদল ও সম্ভাব্য প্রভাব
বইটিতে শুধু প্রেক্ষাপট নয়, জরুরি অবস্থার ভয়াবহতাও তুলে ধরা হয়েছে। নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ, সংবাদমাধ্যমের উপর কঠোর সেন্সরশিপ এবং রাজনৈতিক নেতা থেকে সমাজকর্মীদের ঢালাও গ্রেপ্তারের মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গভীর সংকটের কথা শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে। গণ-আন্দোলনে জয়প্রকাশ নারায়ণের বিশেষ ভূমিকার পাশাপাশি ভুয়ো খবর, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, দারিদ্র্য এবং লিঙ্গবৈষম্যের মতো সমসাময়িক বিষয়গুলোও এই অধ্যায়ে স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে, এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ফরাসি বিপ্লব, রুশ বিপ্লব এবং নাৎসিবাদের মতো আন্তর্জাতিক ইতিহাসের বিষয়গুলোকে নবম থেকে দশম শ্রেণিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ইতিহাসের বদলে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের মতো বিষয়গুলো নবম শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে পড়ুয়াদের মধ্যে অনেক কম বয়স থেকেই দেশের সংবিধান, নাগরিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সম্পর্কে গভীর সচেতনতা তৈরি হবে। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টি তাদের ভবিষ্যৎ নাগরিক হিসেবে আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে।
