ভেনেজুয়েলায় শতাব্দীর ভয়ংকরতম জোড়া ভূমিকম্প, ধ্বংসযজ্ঞের সতর্ক করে গুগল! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ভেনেজুয়েলা। রিখটার স্কেলে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার এই প্রলয়ংকরী কম্পনে রাজধানী কারাকাস-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ৩২ জনের প্রাণহানি এবং প্রায় ৭০০ জনের আহত হওয়ার খবর মিলেছে। তবে এই ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও প্রযুক্তিগত একটি দিক বিশ্বজুড়ে নজর কেড়েছে। জানা গিয়েছে, মূল ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েক সেকেন্ড আগেই গুগলের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলাবাসীর ফোনে আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে গিয়েছিল।
স্মার্টফোনের সেন্সরেই প্রাণরক্ষার চাবিকাঠি
গুগলের এই আগাম সতর্কবার্তার নেপথ্যে রয়েছে স্মার্টফোনের অত্যন্ত পরিচিত একটি প্রযুক্তি। প্রতিটি আধুনিক স্মার্টফোনে থাকা অ্যাক্সেলেরোমিটার সেন্সর মূলত স্ক্রিন ঘোরানোর কাজে ব্যবহৃত হলেও, এটি সূক্ষ্ম কম্পন শনাক্ত করতেও সক্ষম। প্রাথমিক কোনও কম্পন অনুভূত হলেই এই সেন্সর গুগলের ‘অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টস সিস্টেম’-এ সম্ভাব্য অবস্থান-সহ একটি সংকেত পাঠায়। এরপরই গুগল দ্রুত ওই এলাকার অন্যান্য স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কাছে ভূমিকম্পের নোটিফিকেশন পাঠিয়ে দেয়।
পি-তরঙ্গ ও আলোর গতির নিখুঁত মেলবন্ধন
ভূমিকম্প মূলত ঢেউ বা তরঙ্গের আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে প্রাথমিক বা ‘পি-তরঙ্গ’ প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬ কিলোমিটার বেগে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ধেয়ে আসে। অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত ধীর গতির ‘এস-তরঙ্গ’ বা সেকেন্ডারি তরঙ্গই মূলত সবচেয়ে বেশি ধ্বংসলীলা চালায়। স্মার্টফোনগুলি এই দ্রুতগামী পি-তরঙ্গকে সবার আগে শনাক্ত করতে পারে। ফোন থেকে বের হওয়া সংকেত আলোর গতিতে গুগলের সার্ভারে পৌঁছায়। ফলে ধ্বংসাত্মক এস-তরঙ্গ আঘাত হানার আগেই অ্যালার্ট সিস্টেমটি তথ্য যাচাই করে নোটিফিকেশন পাঠানোর জন্য মহামূল্যবান কয়েক সেকেন্ড সময় পেয়ে যায়। সঠিক সময়ে পাওয়া এই সতর্কবার্তাই বড়সড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বহু মানুষের প্রাণরক্ষার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠছে।
