মৃত্যুফাঁদ তারাতলা! ‘ভাগ্যিস কাল যাইনি’, দৈবক্রমে প্রাণে বেঁচে শিউরে উঠছেন নীলা – এবেলা

মৃত্যুফাঁদ তারাতলা! ‘ভাগ্যিস কাল যাইনি’, দৈবক্রমে প্রাণে বেঁচে শিউরে উঠছেন নীলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: “রাখে উপরওয়ালা মারে কে!”— প্রবাদটি যেন অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল খিদিরপুরের হাইড রোডের বাসিন্দা নীলা দেবীর জীবনে। বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিট। বিকট শব্দে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তারাতলার একটি নির্মীয়মাণ গোডাউনের কাঠামো। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা পরিণত হয় মৃত্যুপুরীতে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় যখন অনেকের প্রাণ গেল, তখন স্রেফ ভাগ্যের জোরেই সাক্ষাৎ মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে ফিরলেন নীলা।

কীভাবে প্রাণে বাঁচলেন তিনি? গত সাত-আট মাস ধরে তারাতলার ওই অভিশপ্ত গোডাউনে নিয়মিত জল সরবরাহের কাজ করতেন নীলা দেবী। দিনমজুরি করে রোজগার ছিল ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা। কিন্তু বুধবার নিজের কিছু কাজ থাকায় তিনি নিজে না গিয়ে সহকর্মী বোদন মুন্ডাকে জল দিতে পাঠিয়েছিলেন। আর তাতেই বদলে যায় পরিণতি! ওই দুর্ঘটনায় চাপা পড়ে বোদন মুন্ডা বর্তমানে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

শিউরে উঠে নীলা বলেন, “কাল যদি আমি কাজে যেতাম, তবে আজ আমাকেও হয়তো হাসপাতালে শুয়ে থাকতে হতো। স্রেফ ভাগ্যের জোরেই বেঁচে গেলাম।”

আগেই মিলেছিল বিপদের সংকেত! নীলা জানিয়েছেন, ওই গোডাউনের কাঠামো যে দুর্বল ছিল, তার ইঙ্গিত তিনি আগেই পেয়েছিলেন। তিনি খেয়াল করেছিলেন, গোডাউনের ছাদটি মাঝে মাঝেই কাঁপত। তা সত্ত্বেও স্রেফ পেটের দায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সেখানে রোজ কাজে যেতেন তিনি।

তারাতলা বিপর্যয়ের বর্তমান পরিস্থিতি একনজরে:

  • হতাহত: বেহরা ব্রাদার্সের এই নির্মীয়মাণ গোডাউন ভেঙে পড়ার ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আরও ১৯ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
  • প্রশাসনের পদক্ষেপ: এই গাফিলতির ঘটনায় ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ করেছে পুলিশ। কো ম্পা নির মালিক-সহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
  • ক্ষতিপূরণ: ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *