৩২৯ জনের মৃত্যুতে খলিস্তানিদেরই হাত! ৪০ বছর পর ‘কণিষ্ক’ হামলা নিয়ে মুখ খুলল কানাডা – এবেলা

৩২৯ জনের মৃত্যুতে খলিস্তানিদেরই হাত! ৪০ বছর পর ‘কণিষ্ক’ হামলা নিয়ে মুখ খুলল কানাডা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

১৯৮৫ সালের ২৩ জুন আয়ারল্যান্ড উপকূলে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান ‘কণিষ্ক’ ভয়ংকর বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়। মর্মান্তিক ওই ঘটনায় ৩২৯ জন যাত্রীর প্রাণহানি ঘটেছিল, যাদের অধিকাংশই ছিলেন কানাডীয় নাগরিক। এই নারকীয় জঙ্গি হামলার নেপথ্যে খলিস্তানিদের হাত রয়েছে বলে শুরু থেকেই দৃঢ়ভাবে দাবি করে আসছিল ভারত। দীর্ঘ চার দশক পর অবশেষে ভারতের সেই দাবিকে আনুষ্ঠানিক মান্যতা দিল কানাডা। কানাডার গোয়েন্দা সংস্থা সিএসআইএস স্পষ্টভাবে স্বীকার করে নিয়েছে যে, কানাডার মাটিতে সক্রিয় খলিস্তানি জঙ্গিরাই এই ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়েছিল, যা সে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা।

কেন এত বছর পর সত্য প্রকাশ

কণিষ্ক হামলার পর থেকে কানাডার পূর্ববর্তী সরকারগুলির বিরুদ্ধে খলিস্তানিদের প্রতি নমনীয় মনোভাব দেখানোর অভিযোগ ছিল। মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণেই তারা চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থেকেছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের। এর পাশাপাশি, কানাডার গোয়েন্দা সংস্থা সিএসআইএস এবং রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেন পুলিশের (RCMP) পারস্পরিক দ্বন্দ্ব সে সময় তদন্ত প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছিল, যার ফলে বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও নষ্ট হয়। ২০১০ সালে কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হার্পার নিহতের পরিবারগুলোর প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক উদাসীনতার কথা স্বীকার করলেও, রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে খলিস্তানিদের সরাসরি দায়ী করার ক্ষেত্রে দীর্ঘ টালবাহানা বজায় ছিল।

সরকার বদলেই পরিবর্তিত সমীকরণ

গত বছর খলিস্তানি জঙ্গি হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকে কেন্দ্র করে জাস্টিন ট্রুডো সরকারের আমলে ভারত-কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্ক কার্যত তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। ট্রুডো সরকার কানাডায় ক্রমবর্ধমান খলিস্তানি কার্যকলাপের প্রতি একপ্রকার উদাসীনতা প্রদর্শন করেছিল। তবে সম্প্রতি কানাডায় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মার্ক কার্নি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ায় পরিস্থিতির আমূল বদল ঘটেছে। কার্নির নেতৃত্বাধীন সরকার এবং গোয়েন্দা সংস্থা সিএসআইএস প্রথমবারের মতো কানাডা-ভিত্তিক খলিস্তানি সংগঠনগুলোকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কানাডার এই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে তাদের নীতির কৌশলগত বদলকে স্পষ্ট করছে, যা আগামী দিনে খলিস্তানিদের অবাধ বিচরণে রাশ টানার পাশাপাশি ভারত-কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *