তারাতলা বিপর্যয়: “কাজ শেষ, দু-তিন দিনে বাড়ি ফিরব মা”— আর ফেরা হলো না ১৭ বছরের রাহুলের! – এবেলা

তারাতলা বিপর্যয়: “কাজ শেষ, দু-তিন দিনে বাড়ি ফিরব মা”— আর ফেরা হলো না ১৭ বছরের রাহুলের! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: পেটের টানে গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি দিয়েছিলেন রুজি-রোজগারের আশায়। কিন্তু কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসে নদিয়ার শম্ভুনগর গ্রামের দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে এখন শোকের ছায়া নদিয়া জুড়ে। ১৭ বছরের কিশোর রাহুল চৌধুরী এবং ৫৫ বছরের চন্দ্রমা চৌধুরীর মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে দুটি পরিবার।

কী ঘটেছিল বুধবার?

স্থানীয় সূত্রে খবর, তারাতলার ওই নির্মাণাধীন গোডাউনের ছাদে ঢালাইয়ের কাজে বড়সড় প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশমতো সেই ত্রুটি মেরামতির কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। বুধবার দুপুরে আচমকাই বিকট শব্দে ভেঙে পড়ে বিশাল নির্মাণ কাঠামো। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনার সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ৫০ জন শ্রমিক চাপা পড়ে গিয়েছিলেন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে আহতদের এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যায়, সেখানেই নদিয়ার এই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

রাহুলের সেই শেষ কথা

বয়স মাত্র ১৭, তবুও পরিবারের হাল ধরতে কাজ নিতে হয়েছিল রাহুল চৌধুরীকে। প্রতিদিন নিয়ম করে মায়ের সঙ্গে কথা বলত সে। বুধবার দুর্ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেও মায়ের ফোনে কল করে বলেছিল, “কাজ তো প্রায় শেষ, মা। আর দু-তিন দিন পরেই বাড়ি ফিরছি।” রাহুলের সেই শেষ কথাটাই এখন পরিবারকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। দু-তিন দিন পর সে ঠিকই বাড়ি ফিরল, কিন্তু কোনো হাসিমুখ নিয়ে নয়, ফিরল নিথর দেহ হয়ে।

গ্রামের আর্তনাদ ও সুরক্ষাবিধি নিয়ে প্রশ্ন

মাত্র তিন মাস আগে গ্রামের এক ঠিকাদারের হাত ধরে কলকাতায় কাজে গিয়েছিলেন শম্ভুনগর চৌধুরী পাড়ার বেশ কয়েকজন শ্রমিক। বুধবারের বিপর্যয় কেড়ে নিল দুই প্রাণ, আর একই গ্রামের বাসিন্দা দুর্বাশা মাল্লা সহ আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক বর্তমানে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। বৃহস্পতিবার যখন ময়নাতদন্ত শেষে দুই শ্রমিকের দেহ গ্রামে পৌঁছায়, তখন কান্নায় ফেটে পড়েন গ্রামবাসীরা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, বহুতল নির্মাণের ক্ষেত্রে আদৌ কোনো সুরক্ষাবিধি মানা হয়েছিল কি? নাকি অবহেলার মাশুল দিতে হলো দুই হতভাগ্য শ্রমিককে?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *