কালীঘাটে টাওয়ার লোকেশন থেকে রিজেক্ট জামিন! আইনি ফাঁসে কোণঠাসা অভিষেকের আপ্তসহায়ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। জমি দুর্নীতি এবং কোটি কোটি টাকা তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত সুমিতের জামিনের আর্জি খারিজ হওয়ায় তাঁর গ্রেফতারির সম্ভাবনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্পষ্ট জানান, পুরো ঘটনার পেছনে এক গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এবং এর সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এক ব্যক্তির কাছ থেকেই সরাসরি ১০ লক্ষ টাকা তোলা নেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতি ও প্রতারণার জাল কতটা গভীরে বিস্তৃত, তা তদন্ত করতে সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছে আদালত।
তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে কালীঘাট:
পুলিশ সূত্রে খবর, এই জমি দুর্নীতি মামলায় আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁকে জেরা করেই উঠে আসে সুমিত রায়ের নাম। অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা তোলাবাজির বড় অংশের সুবিধাভোগী ছিলেন সুমিতই।
তদন্তে নতুন মোড় আসে যখন জানা যায়, সুমিত রায়ের মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন মিলেছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির ঠিকানায়। এই তথ্য পাওয়ার পরেই কাকভোরে তৃণমূল সাংসদের বাসভবনে হানা দেয় পুলিশ। যদিও সেই সময় সুমিতের নাগাল পাওয়া যায়নি।
আইনি পথে কোন রাস্তা খোলা?
হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে জামিন খারিজ হওয়ার পর সুমিত রায়ের সামনে এখন সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার আইনি পথ খোলা রয়েছে। তবে তদন্তকারী সংস্থা যেভাবে সক্রিয়, তাতে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, যেকোনো মুহূর্তেই গ্রেফতার হতে পারেন অভিষেক-আপ্তসহায়ক। আদালতের এই নির্দেশ তৃণমূল শিবিরের অস্বস্তি যে অনেকটাই বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য।
