২১ জুলাই ধর্মতলায় মহাসমাবেশ! ফোনের ওপার থেকে ঋতব্রতকে তুলোধনা মমতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: দলের ভেতরে ভাঙন ও টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস উপলক্ষে ধর্মতলায় বড় সমাবেশের ডাক দিয়ে দলের কর্মীদের মনোবল ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা করলেন তৃণমূল নেত্রী।
১২ মিনিটের হুঙ্কার
বৃহস্পতিবার উত্তর কলকাতা জেলা তৃণমূলের কর্মিসভায় ফোনের মাধ্যমে টানা ১২ মিনিট বক্তব্য রাখেন মমতা। তিনি স্পষ্ট জানান, “২১ জুলাই আশা করি অনুমতি পাব। সে দিন বিস্তারিত বলব। পাঁচ জন কর্মী থাকলেও ওই মিটিংয়ে আমি থাকব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তা কেবল উত্তর কলকাতার কর্মীদের জন্য নয়, বরং গোটা রাজ্যের তৃণমূল স্তরের সংগঠনের কাছে এক স্পষ্ট রাজনৈতিক সংকেত।
বেঈমানদের কড়া বার্তা
এদিন দলত্যাগীদের উদ্দেশে আবেগঘন অথচ আক্রমণাত্মক ছিলেন নেত্রী। তিনি বলেন, “কেউ কেউ নিজেকে ও পরিবারকে বাঁচাতে বেঈমানি করেছে। মা অসুস্থ (দল), সেই সময় তাকে দেখছেন না?” বিদ্রোহীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বলেন, যাঁদের সুবুদ্ধি আছে তাঁরা ফিরে আসুন, আর যাঁরা অন্য পথে চলছেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত ‘না ঘর কা না ঘাট কা’ হয়ে থাকবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ইডি-সিআইডির চাপকেও তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেন।
ঋতব্রতকে তুলোধনা
বিধানসভায় পরিষদীয় দল ভাঙার মূল কারিগর, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেছেন মমতা। নাম না করে তিনি বলেন, “বিজেপি স্পনসর্ড সিপিএমের নেতা। সিপিএম একটা কাজই ভালো করেছিল—এটিকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল।” পাল্টা জবাবে ঋতব্রত কটাক্ষ করে বলেন, কুণাল ঘোষ যদি তাঁকে ‘চারআনার নকুলদানা’ বলে থাকেন, তবে নেত্রী কেন তাঁকে নিয়ে এতটা সময় নষ্ট করছেন?
আইনি লড়াইয়ের মঞ্চ
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের মামলা নিয়ে হাইকোর্ট মমতা ও অভিষেককে নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দিলেও, আইনি জট উপেক্ষা করেই ধর্মতলার সমাবেশের প্রস্তুতি শুরু করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ক্ষমতার হাতবদলের পর এই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের কাছে এক অগ্নিপরীক্ষা। সমাবেশের ভিড়ই নির্ধারণ করে দেবে, তৃণমূলের শিকড় আজও কতটা গভীরে প্রোথিত।
