শুভেন্দুর সঙ্গে গোপন বৈঠক! নবান্নে হঠাৎ কেন হাজির কাকলি-শতাব্দী-সুদীপ? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তৃণমূলে ভাঙনের গুঞ্জনের মাঝেই নবান্নে এক নাটকীয় দৃশ্য। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজ্যের প্রশাসনিক সদর দফতর নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন তৃণমূল থেকে বিদ্রোহ করা সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়। এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
কেন এই বৈঠক?
তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহ ঘোষণার পর ১৯ জন সাংসদকে নিয়ে কাকলি ঘোষদস্তিদার এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দিয়েছেন এবং কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন। লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ হারানো থেকে শুরু করে দলের অন্দরের ক্ষোভ— সব মিলিয়ে তৃণমূলের সংগঠন এখন টালমাটাল। এর মধ্যেই এমন হঠাৎ বৈঠক স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কী বলছেন সাংসদরা?
বৈঠক শেষে কাকলি ঘোষদস্তিদার দাবি করেছেন, তাঁদের এই নবান্ন সফরের পেছনে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি নেই। বরং বিধানসভা অধিবেশন এবং তারাতলায় গুদাম ধসে হওয়া বিপর্যয় নিয়ে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ ও আলোচনার উদ্দেশ্যেই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে বিধানসভায় ৬০ জন বিধায়কের আলাদা গোষ্ঠী তৈরি, অন্যদিকে লোকসভায় কাকলি-শতাব্দীদের দলবদল— সব মিলিয়ে তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্ব চূড়ান্ত অস্বস্তিতে। তৃণমূলের প্রতীকে জিতে এখন এনডিএ সরকারের শরিক হওয়ার পথে এই সাংসদরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কী ধরনের ‘উন্নয়নমূলক’ আলোচনা করলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
আগামী দিনে রাজ্যের শাসকদলের এই ভাঙন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন বাংলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।
