বিতর্ক পিছু ছাড়ল না ভিক্টরের, বধূ নির্যাতনের পর এবার দলবিরোধী কাজে সাসপেন্ড কংগ্রেস নেতা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য রাজনীতিতে ফের বড়সড় ধাক্কা খেলেন প্রাক্তন বিধায়ক তথা কংগ্রেস নেতা আলি ইমরান রামজ ওরফে ভিক্টর। বধূ নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগের আবহে এবার দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তাঁকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করল হাতশিবির। নিজেকে ‘অধীরপন্থী’ নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া উত্তর দিনাজপুরের এই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের এই চরম পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে।
নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের মাশুল
দলীয় সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারসহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্য করে আসছিলেন গোয়ালপোখোর ও চাকুলিয়ার এই প্রাক্তন ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক। ভোটের আগেই তাঁর এই দলবিরোধী অবস্থানের বিষয়টি দলের নজরে আসায় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁকে প্রথমে শোকজ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সন্তোষজনক জবাব না মেলায় দলীয় সংবিধানের অবমাননা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে তাঁকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। প্রাক্তন ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক রামজান আলির ছেলের এই আচরণকে দল কোনোভাবেই বরদাস্ত করেনি।
পারিবারিক কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক প্রভাব
ভিক্টরের এই রাজনৈতিক সংকটের নেপথ্যে দলীয় কোন্দলের পাশাপাশি রয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এক বড় বিতর্ক। গত ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলি নিয়োগী ভিক্টর ও তাঁর মায়ের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, পণের দাবি এবং অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) মতো মারাত্মক অভিযোগ এনে এফআইআর দায়ের করেন। কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রিয়াঞ্জলি ভিক্টরের ‘বদমেজাজি চরিত্র’ ও অত্যাচারের বিবরণ দেওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীকেও চিঠি পাঠিয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক কেলেঙ্কারির কারণে আগেই কোণঠাসা হয়ে পড়া ভিক্টরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এই সাসপেনশনের ফলে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল, যা উত্তর দিনাজপুর এলাকায় কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
