ধান্দাবাজদের বিদায়, আসল সম্পদ কর্মীরাই! তৃণমূলের ঘুরে দাঁড়ানোর হুঙ্কার মমতার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: দল ছেড়ে যাওয়া নেতাদের ‘ধান্দাবাজ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তর কলকাতার রামমোহন মঞ্চে আয়োজিত এক কর্মীসভায় ফোন-বার্তায় নেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থে যাঁরা দলবদল করেছেন, তাঁদের জন্য তৃণমূলের দরজা চিরতরে বন্ধ। দলের আসল শক্তি কর্মীরাই, এবং তাঁদের হাত ধরেই তৃণমূল আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
দলত্যাগীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা:
যারা পরিবার ও নিজেদের সম্পত্তি বাঁচাতে বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, তাঁদের ধিক্কার জানিয়ে মমতা বলেন, “যাঁদের ঘাম-রক্তের বিনিময়ে আজ বিধায়ক বা সাংসদ হয়েছেন, আজ তাঁরাই বিপদের মুখে। এটা সন্তানের মায়ের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার মতো। যাঁরা ভাবছেন দলবদল করে বেঁচে গেলেন, মনে রাখবেন, জনগণ তাঁদের কাছেই কৈফিয়ত চাইবে। এঁরা না ঘরের, না ঘাটের হবেন।”
নেত্রীর ভাষণে উঠে এল মূল বিষয়গুলি:
- প্রকৃত সম্পদ কর্মীরাই: নেত্রী বার বার মনে করিয়ে দিয়েছেন, কর্মী ছাড়া নেতা তৈরি হয় না। তাই নতুন বিধায়ক ও নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন, কর্মীদের সম্মান দিতে, নচেৎ কর্মীরাই তাঁদের আসল চেহারা দেখাবে।
- পুলিশ ও প্রশাসনের সমালোচনা: পুলিশ ও প্রশাসনের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, “এই পুলিশ আমার অচেনা। যে পুলিশ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখবে, তারাই এখন নেতাদের গাড়িতে তুলে দিচ্ছে।”
- বিজেপি ও গণতন্ত্র: বিজেপির বিরুদ্ধে সংবিধান হত্যার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “মিডিয়াকে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির বিরোধিতা করলেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। আমরা এই গণতন্ত্র মানি না।”
- একুশে জুলাইয়ের ডাক: সমস্ত প্রতিকূলতার মধ্যেও ২১ জুলাইয়ের শহিদ তর্পন কর্মসূচি সফল করার ডাক দিয়েছেন নেত্রী। তিনি বলেন, “পাঁচজন থাকলেও ধর্মতলার সভা আমরা করবই।”
সংগ্রামের শপথ:
নিজের পরিবারের ওপর এজেন্সির চাপ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেনস্থা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, “আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে। লুণ্ঠিত হয়েছে নির্বাচন। তবুও আমরা মাথা নত করব না। তৃণমূল কংগ্রেস বিক্রি হবে না।”
পরিশেষে কর্মীদের উদ্দেশ্যে নেত্রীর বার্তা—সংযত হন, সংগঠিত হন এবং লক্ষ্যে স্থির থাকুন। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, জনগণের পাশে থেকে লড়াই চালিয়ে গেলে তৃণমূল কংগ্রেস আবার বাংলা জয়ের পথে ফিরবেই।
