তারাতলার ধ্বংসস্তূপে দুর্যোগ কাটিয়ে ফের শুরু উদ্ধারকাজ, মিলবে কি আর প্রাণের সন্ধান? – এবেলা

তারাতলার ধ্বংসস্তূপে দুর্যোগ কাটিয়ে ফের শুরু উদ্ধারকাজ, মিলবে কি আর প্রাণের সন্ধান? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসে বহু মানুষের মৃত্যুর পর এখনও থমথমে গোটা এলাকা। বুধবারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর টানা উদ্ধারকাজ চললেও বৃহস্পতিবার দুপুরের প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতে তা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। তবে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই বৃষ্টি কিছুটা কমলে ফের তৎপরতার সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে হাত লাগায় সেনা, এনডিআরএফ, পুলিশ ও দমকল বাহিনী। বৃষ্টির জল গর্ত দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করায় উদ্ধারকাজে কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সচেষ্ট উদ্ধারকারী দল।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও ক্ষীণ আশার আলো

বৃষ্টির কারণে সুরক্ষার স্বার্থে সরাসরি বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতির বদলে ব্যাটারিচালিত সরঞ্জাম ব্যবহার করে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের ভেতরে থ্রিডি ও নাইট ভিশন ক্যামেরা প্রবেশ করিয়ে চলছে জোরদার তল্লাশি। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এনডিআরএফ-এর ‘লাইভ ডিটেক্টর’ যন্ত্রে এই মুহূর্তে আর কোনো প্রাণের স্পন্দন ধরা পড়ছে না। ফলে জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমশ ক্ষীণ হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কংক্রিটের ওই বিশাল স্তূপের নিচে এখনও অন্তত তিনজনের দেহ আটকে থাকতে পারে।

সেনার চিকিৎসা শিবির ও সম্ভাব্য প্রভাব

ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে ঘটনাস্থলের ঠিক উল্টোদিকেই অত্যাধুনিক চিকিৎসা শিবির তৈরি করেছে সেনাবাহিনী। সেখানে পর্যাপ্ত ওষুধ, বেড এবং আধুনিক স্ট্রেচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা একটানা কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁদেরও এই শিবিরে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নির্মীয়মাণ এই ভবনের ছাদে ধস নামার মূল কারণ হিসেবে নির্মাণগত ত্রুটিকেই প্রাথমিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শহরের অন্যান্য নির্মাণকাজের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এবং আগামী দিনে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনকে কড়া নজরদারির পথে হাঁটতে বাধ্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *