খরচ বাঁচাতে গিয়েই তারাতলায় মৃত্যুফাঁদ! প্রকাশ্যে এল গাফিলতির চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা

খরচ বাঁচাতে গিয়েই তারাতলায় মৃত্যুফাঁদ! প্রকাশ্যে এল গাফিলতির চাঞ্চল্যকর তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তারাতলায় নির্মাণাধীন তিনতলা গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় উঠে এল চরম গাফিলতির তথ্য। কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, স্রেফ খরচ বাঁচাতে জেনেশুনেই এই নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। পুরো প্রকল্পের জন্য লোহার রড খাতে মাত্র ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়, যা প্রয়োজনীয় খরচের তুলনায় অনেক কম। এই অবাস্তব বাজেটের মধ্যে কাজ শেষ করার অসাধু চেষ্টাই তারাতলা বিপর্যয়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

দায়িত্বহীনতার চরম নিদর্শন ও নিখোঁজ শ্রমিকদের ধন্দ

এই বিপর্যয়ের সম্ভাব্য প্রভাব ও ক্ষতির পরিমাণ এখনও সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকে রয়েছেন, তা নিয়ে চরম ধন্দে রয়েছে প্রশাসন। কারণ, নির্মাণস্থলে কর্মরত শ্রমিকদের কোনও নির্দিষ্ট রেকর্ড রাখা হতো না। খাতায়-কলমে কোনও হিসেব থাকলেও তা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে রয়েছে, যার ফলে নিখোঁজদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা প্রায় আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্রেপ্তার মূল অভিযুক্তরা এবং তদন্তের গতিপ্রকৃতি

এই গোডাউন নির্মাণের মূল দায়িত্বে থাকা ‘আয়ান ট্রেডার্স’-এর কর্ণধার আসগরের দেহ ইতিমধ্যেই ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয়েছে। তবে পুলিশ এই ঘটনায় আয়ান ট্রেডার্সের সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, লোহার বিমের ফ্যাব্রিকেটর কমল সামন্ত, গোডাউনের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা, শ্রমিক সরবরাহকারী দিবাকর ভান্ডারী এবং পুরসভার দালাল আবদুল হামিদকে গ্রেপ্তার করে আলিপুর আদালতে পেশ করেছে। অনিচ্ছাকৃত খুন ও ইচ্ছাকৃত খুনের চেষ্টার মামলায় বিচারক তাদের ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি আইনজীবীর মতে, অভিযুক্তরা স্পষ্ট জানতেন যে নিম্নমানের লোহা ও সামগ্রী ব্যবহারে নির্মাণ ভেঙে পড়তে পারে, তবুও তারা সেই মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েছিলেন।

ঘটনার তদন্তে নেমে কলকাতা পুরসভার অনুমোদিত প্ল্যান এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া ৩০ বছরের লিজের নথি খতিয়ে দেখছে লালবাজারের সিট। এর পাশাপাশি উঠে এসেছে মৃত ঠিকাদার আসগরের অপরাধমূলক অতীত। তোলাবাজি ও অপহরণের মতো একাধিক পুরনো মামলা থাকা আসগর এক প্রাক্তন মন্ত্রীর ছত্রছায়ায় নির্মাণ ব্যবসায় যুক্ত হয়েছিলেন বলে পুলিশি তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে। বেআইনিভাবে প্ল্যান অনুমোদন, অপর্যাপ্ত বাজেট এবং ঠিকাদারি সংস্থার গাফিলতিই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাকে অনিবার্য করে তুলেছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *