১১০০ কোটির সম্পত্তি ও ৩৪৫ বিঘা জমির দখল! ২৬ বার কোপ মেরে খুন মহন্ত, নেপথ্যে উকিল-সহ-পুরোহিতের চক্রান্ত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কোটা: রাজস্থানের কোটায় চন্দ্রশাল মঠের প্রধান পুরোহিত দেবানন্দ মহারাজকে খুনের ঘটনায় বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ৫ জুন তাঁকে বাড়ির বাইরে ২৬ বার ছুরি মেরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে এটিকে সাধারণ অপরাধ মনে হলেও, পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে জমি-ধর্ম ও ক্ষমতার এক ভয়াবহ ককটেল। এই হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে এক নামী আইনজীবী এবং মঠেরই এক সহ-পুরোহিতকে।
খুনের নেপথ্যের মূল কারণ:
তদন্তকারীদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের মূল শিকড় হলো মঠের ট্রাস্টের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রায় ৩৪৫ বিঘা (২১৫ একর) মূল্যবান জমি ও ব্যাংকে থাকা ৪ কোটি টাকা।
- জমি বিবাদ: অর্ধশতাব্দী ধরে চলা এই সম্পত্তির লড়াইয়ে ২০১৬ সালে আদালত রায় দেয়, জমিটি মঠের। চূড়ান্ত ফয়সালার জন্য বর্তমানে জমিটি রিসিভারের অধীনে। এই বিশাল সম্পত্তি ও কৃষিজমির নিলাম থেকে আসা টাকা নিয়ন্ত্রণ করতেই পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় দেবানন্দ মহারাজকে।
- ক্ষমতার লড়াই: অভিযুক্ত আইনজীবী সন্তোষ কুমার রাই মামলা লড়ার টোপ দিয়ে ট্রাস্টের অন্দরে ঢোকেন এবং দেবানন্দ-বিরোধী গোষ্ঠীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।
- জাতিগত ও পন্থ বিতর্ক: দেবানন্দ মহারাজের জুনা আখড়া থেকে আসা এবং মঠের নিয়ম না মানা নিয়ে অন্দরে ক্ষোভ ছিল। পাশাপাশি, তিনি নিজের ‘গুর্জর’ সম্প্রদায়ের মানুষদের গুরুত্ব দিচ্ছেন—এই অভিযোগে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চূড়ান্ত আকার নেয়।
ঘটনার আড়ালে কী ছিল?
মৃত মহন্তের ভাই জানান, গত পাঁচ মাস ধরেই তাঁকে মঠ ছাড়ার জন্য অনবরত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সেই হুমকির অডিও রেকর্ডিংও পুলিশের হাতে রয়েছে। আইনজীবী সন্তোষ কুমার রাই এবং সহ-পুরোহিত নন্দন বান নিজের পছন্দের লোক বসাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত পেশাদার খুনিদের ১ লক্ষ টাকার সুপারি দিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটান।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় এ পর্যন্ত এক নাবালকসহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইনজীবী সন্তোষ কুমার রাই, সহ-পুরোহিত নন্দন বান ছাড়াও খুনে যুক্ত থাকার অভিযোগে আদিত্য বর্মা, অঙ্কিত বৈরওয়া, পুষ্পেন্দ্র সিং এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে অভিযুক্তের স্ত্রী ও এক প্রহরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজস্থানের এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
