‘কখন কাকে জেলে ভরা হবে, কে জানে!’ জরুরি অবস্থার ভয়াবহ স্মৃতি রোমন্থন মানিক সাহার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আগরতলা: ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন। দেশের ইতিহাসে সেই দিনটি এখনও এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার নাম। ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেই জরুরি অবস্থার ভয়াবহ স্মৃতিচারণ করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা। তাঁর কথায় ফুটে উঠল তৎকালীন পরিস্থিতির এক আতঙ্কজনক ছবি।
কী স্মৃতিচারণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী?
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেই অস্থির সময়ে তিনিও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “১৯৭৫ সালে ইমার্জেন্সি ঘোষণার সময় আমি-সহ ত্রিপুরার বেশ কয়েকজন এলাহাবাদ রেলওয়ে স্টেশনে আটকে পড়েছিলাম। টানা তিনদিন সেখানে কাটাতে হয়। সে সময় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সুখময় সেনগুপ্ত। রাজ্যে তখন এক শ্বাসরূদ্ধকর পরিবেশ ছিল। সবসময় একটা আতঙ্ক কাজ করত— কখন কাকে ধরে নিয়ে যাবে, কখন কাকে জেলে পুরে দেবে!”
গণতন্ত্রের ওপর ‘কালো অধ্যায়’
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ইন্দিরা গান্ধী নিজের গদি বাঁচাতে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। দেশের গণতন্ত্রের জন্য সেই সময়টা ছিল এক অন্ধকার অধ্যায়। কংগ্রেস যেখানে খোদ দেশের গণতন্ত্রকে ধুলিস্যাৎ করার চেষ্টা করেছিল, তাদের মুখে গণতন্ত্রের বুলি মানায় না।”
কেন পালন করা হচ্ছে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’?
২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২৫ জুন দিনটিকে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা করেন। এ প্রসঙ্গে মানিক সাহা জানান:
- আগামী প্রজন্ম ও যুব সমাজ যাতে জরুরি অবস্থার সেই কালো দিনগুলো ভুলে না যায়, তা নিশ্চিত করা।
- দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও সংবিধানের মর্যাদা বজায় রাখার শপথ নেওয়া।
- একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতা যাতে আর কখনও মাথাচাড়া দিতে না পারে, তার জন্য সচেতনতা গড়ে তোলা।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি অভিষেক দেবরায়, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী টিংকু রায়, এবং আরএসএস-এর প্রচারক পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব। বর্তমান প্রজন্মের কাছে জরুরি অবস্থার সেই অন্ধকার সময়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতেই বিজেপি এই দিনটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পালন করছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
