বড় সিদ্ধান্ত! রাজ্যে এক মাস বন্ধ জি+৫ বাণিজ্যিক নির্মাণ, মিলল রেসিডেন্সিয়াল ছাড় – এবেলা

বড় সিদ্ধান্ত! রাজ্যে এক মাস বন্ধ জি+৫ বাণিজ্যিক নির্মাণ, মিলল রেসিডেন্সিয়াল ছাড় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গার্ডেনরিচ ও তারাতলার মর্মান্তিক বিপর্যয়ের পর বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলিতে ‘জি+৫’ বা ছয় তলা এবং তার বেশি উচ্চতার সমস্ত বেসরকারি বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণকাজ আগামী এক মাসের জন্য স্থগিত করল রাজ্য সরকার। শুক্রবার পিডব্লিউডি টেন্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই নির্দেশিকা জারি করে স্পষ্ট করে দেন, মানুষের জীবনের মূল্যের সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা হবে না। অপরিকল্পিত নির্মাণের জেরে ঘটে চলা এই দুর্ঘটনাগুলি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার জেরে সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় প্রভাব পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে শহরের সুরক্ষা সুনিশ্চিত হবে।

অডিট কমিটির কড়া নজরদারি ও নিয়মবিধি

নির্মাণকাজ আইন মেনে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ১১ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির কড়া নজরদারির আওতায় থাকছে কলকাতা পুর এলাকা, বিধাননগর, রাজারহাট, নিউটাউন, হাওড়ার বালি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও উত্তর শহরতলির বিস্তীর্ণ অংশ। অডিট কমিটির তদন্তে নকশা বা নির্মাণে বড়সড় ত্রুটি মিললে সংশ্লিষ্ট বহুতলের অনুমোদন চিরতরে বাতিল হতে পারে। তবে ভুল সংশোধনযোগ্য হলে নির্মাণ সংস্থাকে তা শুধরে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এই কঠোর স্বাস্থ্যপরীক্ষায় পাশ করতে পারলেই আগামী ১ অগস্ট থেকে ফের কাজ শুরুর অনুমতি মিলবে।

তদন্তের সময়সীমা ও আমজনতার স্বস্তি

এই নির্দেশিকার জেরে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার বা বিভ্রান্ত হওয়ার কোনও কারণ নেই বলে প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বসতবাড়ি নির্মাণ, সংস্কার বা মেরামতির কাজ এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে। পাশাপাশি, তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে অডিট কমিটিকে ব্লু-প্রিন্ট বা নকশা পরীক্ষার প্রাথমিক রিপোর্ট আগামী ৭ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোয় কোনও বিপজ্জনক গলদ রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করবে কমিটি। রাজ্যের মতে, নগরায়ণ স্তব্ধ করা লক্ষ্য নয়, বরং নাগরিকদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই কড়া পদক্ষেপের মূল ভিত্তি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *