স্তব্ধ অলকা ইয়াগনিকের গানের জগৎ! মারাত্মক যে ভুলগুলোতে চিরতরে হারাতে পারেন শ্রবণশক্তি – এবেলা

স্তব্ধ অলকা ইয়াগনিকের গানের জগৎ! মারাত্মক যে ভুলগুলোতে চিরতরে হারাতে পারেন শ্রবণশক্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সম্প্রতি দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে দেশের অন্যতম সম্মানজনক নাগরিক পুরষ্কার ‘পদ্মভূষণ’-এ ভূষিত হয়েছেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী অলকা ইয়াগনিক। তবে এই অসামান্য অর্জনের আড়ালে তিনি এক কঠিন শারীরিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গায়িকা নিজেই জানিয়েছেন, একদিন বিমান থেকে নামার পর হঠাৎ করেই তিনি বুঝতে পারেন তার শ্রবণশক্তি সম্পূর্ণ লোপ পেয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একটি তীব্র ভাইরাল ইনফেকশনের কারণে তিনি ‘সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস’ নামক এক বিরল ও স্থায়ী বধিরতায় আক্রান্ত হয়েছেন।

ভয়াবহ সেন্সোরিনিউরাল হিয়ারিং লস

এটি মানুষের কানের স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাসের সবচেয়ে সাধারণ ধরন। কানের ভেতরের সূক্ষ্ম মেকানিজম, অন্তঃকর্ণের সংবেদনশীল কোষ অথবা কান থেকে মস্তিষ্কে শব্দ সংকেত পৌঁছে দেওয়া স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। অলকা ইয়াগনিকের ক্ষেত্রে ভাইরাসের সংক্রমণে এটি হঠাৎ করে ঘটলেও, অনেক সময় দীর্ঘদিনের অযত্নে ধীরে ধীরে এই রোগ বাসা বাঁধতে পারে। এর প্রভাব এতটাই সুদূরপ্রসারী যে, শ্রবণশক্তি চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং রোগীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

যেসব দৈনন্দিন ভুলে নষ্ট হতে পারে শ্রবণশক্তি

ভাইরাল ইনফেকশন ছাড়াও আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রার বেশ কিছু সাধারণ ভুলের কারণে শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইয়ারফোনে উচ্চ শব্দে গান শোনা কানের ভেতরের সংবেদনশীল ‘হেয়ার সেল’ বা কোষগুলোকে চিরতরে ধ্বংস করে দেয়। অনেকেই কান পরিষ্কার করার জন্য কটন বাড বা কাঠি ব্যবহার করেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক; এটি কানের পর্দা ফাটিয়ে স্থায়ী ইনফেকশন তৈরি করতে পারে। এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও শ্রবণশক্তির বড় শত্রু। এর পাশাপাশি ধূমপানের ফলে কানের ভেতরে রক্ত ও অক্সিজেনের সঞ্চালন কমে যাওয়া, মাথায় গুরুতর আঘাত এবং বার্ধক্যের কারণেও মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে। কানের সুরক্ষায় তাই শুরু থেকেই সচেতন হওয়া এবং ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো বর্জন করা অপরিহার্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *