তারাতলা বহুতল ধসে নিভে গেল ঘরের প্রদীপ, কাটা আঙুল দেখে শনাক্ত শ্রমিকের ক্ষতবিক্ষত দেহ! – এবেলা

তারাতলা বহুতল ধসে নিভে গেল ঘরের প্রদীপ, কাটা আঙুল দেখে শনাক্ত শ্রমিকের ক্ষতবিক্ষত দেহ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তারাতলায় নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবন ধসের দু’দিন পর অবশেষে নিখোঁজ শ্রমিক সুমন কর্মকারের (৪০) ক্ষতবিক্ষত দেহ শনাক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে এসএসকেএম হাসপাতালের মর্গে তাঁর বাম হাতের একটি পুরনো কাটা দাগ দেখে দেহটি চিহ্নিত করেন তাঁর ভাই সুজন। বুধবার দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন শ্যামনগরের বাসিন্দা এই দিনমজুর। মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ থেঁতলে যাওয়ায় প্রথমে তাঁকে চেনা না গেলেও আঙুলের ওই বিশেষ চিহ্নই শেষ পর্যন্ত পরিচয় নিশ্চিত করে। স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী শিখা কর্মকার।

নজরদারির অভাব ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণ

প্রাথমিক তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তারাতলার ওই নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ভবনটির নির্মাণে মারাত্মক গাফিলতি ছিল। যথাযথ প্রশাসনিক নজরদারির অভাব এবং ত্রুটিপূর্ণ বিল্ডিং প্ল্যানই এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতেই ওই বহুতলে ঢালাইয়ের কাজের জন্য পৌঁছান সুমন। বুধবার কাজের প্রথম দিনেই ভবনটি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন তিনি। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থা এবং আর্কিটেক্টকে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ বিল্ডিং প্ল্যান বাতিল করার পাশাপাশি আপাতত এক মাসের জন্য এই ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপার্জনহীন পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে এখন অথই জলে সুমন কর্মকারের পরিবার। বাড়িতে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে ১০ বছর এবং মাত্র দেড় বছরের দুটি নাবালক সন্তান। দিনমজুর সুমনের উপার্জনেই চলত পুরো সংসার। কোনো দোষ না করেও অকালে ঝরে যাওয়া এই শ্রমিকের মৃত্যুর পর এখন তাঁর দুটি শিশু সন্তানের পড়াশোনা ও পরিবারের টিকে থাকা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এই বিপর্যয় শুধু একটি বহুতল ধসে পড়াই নয়, বরং নির্মাণ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সুরক্ষার অভাব এবং একটি অসহায় পরিবারের অন্ধকার ভবিষ্যতের বাস্তব চিত্রটি প্রকাশ করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *