বীরভূমের আমোদপুরে প্রতিরক্ষা হাব, বদলে যাচ্ছে রাঙামাটির অর্থনীতির ছবি! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সিউড়ি: রাজ্য বাজেটে বীরভূম জেলার জন্য এক বিশাল বড় ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। দীর্ঘদিনের বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা সাঁইথিয়া ব্লকের আমোদপুর সুগার মিলের জমিতে এবার গড়ে উঠতে চলেছে অত্যাধুনিক ‘ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ বা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির কেন্দ্র। বীরভূম ও বাঁকুড়া জেলাকে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন মানচিত্রে জুড়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই মেগা ব্লু-প্রিন্ট ঘোষণা করা হয়েছে।
কেন আমোদপুরকেই বেছে নেওয়া হলো?
- সরকারি জমি: ১৯৬০-এর দশকে তৈরি আমোদপুর সুগার মিল ২০০২-০৩ সালে বন্ধ হওয়ার পর থেকেই বিশাল সরকারি জমি অব্যবহৃত পড়েছিল। বর্তমানে সেখানে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক রয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কোনো ঝামেলা না থাকায় কাজ শুরু করা সহজ হবে।
- যোগাযোগ ব্যবস্থা: আমোদপুর স্টেশন ও সাঁইথিয়া জংশনের কাছে হওয়ায় কাঁচামাল পরিবহণে রেলের সুবিধা মিলবে। এছাড়া পানাগড় মিলিটারি বেস ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের সঙ্গেও সড়কপথে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
প্রতিরক্ষা হাবটি ঘিরে আমোদপুর, সাঁইথিয়া, সিউড়ি ও রামপুরহাট এলাকায় হাজার হাজার কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। শুধু মূল কারখানা নয়, একে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে অসংখ্য অনুসারী শিল্প বা সাপ্লায়ার ইউনিট। স্থানীয় দক্ষ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রাপ্ত যুবক-যুবতীদের কাজের জন্য আর ভিন রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।
মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর
বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, বীরভূমের আমোদপুরের পাশাপাশি বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটিতেও একটি প্রতিরক্ষা হাব এবং দুর্গাপুরে একটি হাই-টেক ‘সেমিকন্ডাক্টর ইউনিট’ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আমোদপুর-সাঁইথিয়া-দুর্গাপুর-বাঁকুড়া বেল্ট আগামী দিনে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘মিলিটারি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। এই মেগা প্রজেক্টের জন্য সরকার ৫,০০০ কোটি টাকার একটি নতুন শিল্প প্যাকেজও ঘোষণা করেছে, যা বীরভূমের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করবে।
