মাসে পৌনে তিন লাখ টাকার চাকরি, কাজ কেবল অন্যের প্রেম ভাঙা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বর্তমান যুগের জটিল ও ব্যস্ত জীবনে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেয়ে তা থেকে বেরিয়ে আসা যেন আরও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর মানুষের এই দুর্বলতাকেই এবার ব্যবসায়িক রূপ দিতে চলেছে এক আন্তর্জাতিক ডেটিং সংস্থা। তারা ‘চিফ ব্রেকআপ অফিসার’ বা সিবিও পদে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যাদের মূল কাজ হবে ক্লায়েন্টের হয়ে তার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে সম্পর্কচ্ছেদের বার্তাটি পৌঁছে দেওয়া। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এই অভিনব কাজের জন্য প্রতি মাসে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্পোরেট এই চাকরিতে আবেদনের প্রধান যোগ্যতা হলো উচ্চমাত্রার আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা এবং নিজের জীবনে অন্তত তিনটি ব্রেকআপ সামলানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা।
কেন এমন অভিনব উদ্যোগ?
গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমান প্রজন্মের প্রায় ৮৪ শতাংশ মানুষ জীবনে কখনও না কখনও ‘ঘোস্টিং’ বা হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। সঙ্গীর কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়া ব্লক হয়ে যাওয়ার চেয়ে একটি স্পষ্ট বিদায়বার্তা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হতে পারে। এই মনস্তাত্ত্বিক যুক্তিকেই হাতিয়ার করেছে ওই ডেটিং সংস্থাটি। তাদের মতে, অনেকেই সামনাসামনি বসে বিচ্ছেদের কথা বলতে ভয় পান বা ইতস্তত বোধ করেন। এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতেই পেশাদার ব্রেকআপ অফিসারের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
আবেগ আউটসোর্সিং ও তার সম্ভাব্য প্রভাব
আপাতদৃষ্টিতে এই উদ্যোগটি যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতি থেকে মুক্তির সহজ উপায় মনে হলেও, সমাজতত্ত্ববিদ ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিতে প্রমাদ গুনছেন। তাদের মতে, সম্পর্ক ভাঙার প্রক্রিয়াটি কেবল একটি তথ্য আদানপ্রদান নয়, বরং এর সঙ্গে দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহির বিষয়টি গভীরভাবে যুক্ত। তৃতীয় কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে বিচ্ছেদ ঘটানো হলে মানুষ নিজের ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ হারায়, যা ভবিষ্যতে তাদের একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে পারে। কঠিন সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় পাওয়া এবং মানবিক অনুভূতিকে এভাবে আউটসোর্স করার প্রবণতা আগামী দিনে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে চরম অবক্ষয়ের দিকে নিয়ে যাবে এবং সমাজকে একটি অনুভূতিহীন যান্ত্রিক ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
