অভিষেককে নেতা মানি না, মোদী অপ্রতিদ্বন্দ্বী: মমতার পাশে থেকেও বিস্ফোরক শত্রুঘ্ন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: তৃণমূলের অন্দরে যখন বিদ্রোহের আগুন জ্বলছে, সেই সময় আসানসোলের তারকা সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখলেও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা তৃণমূলের অন্দরমহলে বড়সড় ঝোড়ো হাওয়া তুলেছে।
অভিষেককে নিয়ে সরাসরি অবস্থান
সাক্ষাৎকারে দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা মানতে সরাসরি অস্বীকার করেছেন ‘বিহারী বাবু’। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমার নেতা বলে মনে করি না।” বর্ষীয়ান এই নেতার এমন মন্তব্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মমতার পাশে অটল, তবে মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ
অভিষেককে নেতা না মানলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের অটল আনুগত্যের কথা জানিয়েছেন শত্রুঘ্ন। তিনি বলেন, তাঁর কঠিন সময়ে ‘দিদি’ পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাই মমতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা তাঁর পক্ষে আসাম্ভব। তবে নেত্রীর প্রতি অনুগত থেকেও তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করতে ছাড়েননি। মোদীকে ‘প্রশংসার যোগ্য’ আখ্যা দিয়ে শত্রুঘ্ন বলেন, “নরেন্দ্র মোদীর প্রচণ্ড কর্মশক্তি রয়েছে। তিনি এমন একজন নেতা যিনি দিনে ২৪ ঘণ্টাই কাজ করতে পারেন।”
রাজনীতি ও পরিবারের টানাপোড়েন
দলের বিদ্রোহী নেতাদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে শত্রুঘ্ন বলেন, ব্যক্তিস্বার্থে দল ছাড়লে ভবিষ্যতে জনগণের কাছে তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে। রাজনীতিতে নৈতিকতাকে পদের চেয়ে বড় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলে থাকলেও তাঁর ছেলে কুশ সিনহার পছন্দ বিজেপির নীতি ও আদর্শ— যা তাঁর ছেলের একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।
শত্রুঘ্ন সিনহার এই দ্বিচারিতা বা ভিন্নধর্মী অবস্থান তৃণমূলের বর্তমান সংকটের মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে নেত্রীর প্রতি ‘মমতা’, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ‘সমাদর’— আসানসোলের সাংসদের এই সমীকরণ নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।
