ভুললে চড়া সুদ, ভাঙচুরে সরাসরি খাজনা আদায়! আন্দোলন দমাতে নয়া ‘কড়া আইন’ শুভেন্দু সরকারের – এবেলা

ভুললে চড়া সুদ, ভাঙচুরে সরাসরি খাজনা আদায়! আন্দোলন দমাতে নয়া ‘কড়া আইন’ শুভেন্দু সরকারের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: রাজনৈতিক মিছিল, দাঙ্গা বা বিক্ষোভে সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে এবার আর শুধু জেলের ভয় নয়, দিতে হবে কড়া মাসুল। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অভিযুক্তদের থেকে সরাসরি ক্ষতিপূরণ আদায়ের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার অ্যাক্ট, ১৯৭২-এ বড়সড় সংশোধন আনতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার।

কী থাকছে এই নতুন বিলে?

বিধানসভায় পেশ করা ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেন্যান্স অব পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সরকার মূলত অপরাধীদের আর্থিক মেরুদণ্ড ভাঙার কৌশল নিয়েছে। বিলের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • স্বাধীন ক্লেমস কমিশন: ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে একটি স্বাধীন ‘ক্লেমস কমিশন’ গঠন করা হবে। এটি দেওয়ানি আদালতের মতো ক্ষমতা ভোগ করবে।
  • নেপথ্যের মাথাদেরও দায়: শুধু ভাঙচুরকারী নয়, যারা ঘটনার পরিকল্পনা, উসকানি বা অর্থ জোগাবে—সেই নেপথ্যের মদতদাতারাও ক্ষতিপূরণের দায় এড়াতে পারবেন না।
  • সুদের কোপ: ক্ষতিপূরণের টাকা নির্দিষ্ট সময়ে না দিলে তার ওপর সরল সুদ চাপবে। যত দেরি হবে, ঋণের বোঝাও তত বাড়বে।
  • খাজনার মতো আদায়: কমিশনের নির্দেশ না মানলে সেই টাকা ‘বকেয়া ভূমি রাজস্ব’ বা সরকারি খাজনার মতো আইনি প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের মাধ্যমে সরাসরি বাজেয়াপ্ত করা হবে।
  • দৃষ্টান্তমূলক অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ: প্রকৃত ক্ষতির পাশাপাশি প্রয়োজন হলে কমিশন ‘দৃষ্টান্তমূলক’ অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণও ধার্য করতে পারবে, যা মূল ক্ষতির দ্বিগুণের বেশি হবে না।
  • সমান্তরাল বিচার: ফৌজদারি মামলা চলাকালীনও ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া চলবে। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেওয়ানি আদালতে আপিলের সুযোগ রাখা হয়নি।

পরিসর: রাস্তা, সেতু, সরকারি অফিস থেকে শুরু করে দোকান, ব্যক্তিগত বাড়ি, হাসপাতাল, স্কুল বা কারখানার ক্ষতি—সবই এই আইনের আওতায় আসবে।

সরকারের লক্ষ্য: সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লাগাতার রাজনৈতিক হিংসায় সরকারি সম্পত্তির যে ক্ষতি হয়েছে, তার দায়ভার সাধারণ করদাতাদের ওপর পড়ছিল। সরকারের দাবি, এই আইনের ফলে এখন থেকে সেই আর্থিক দায় সরাসরি অভিযুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠনের ওপর পড়বে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আইন কার্যকর হলে ভবিষ্যতে যেকোনো আন্দোলনের আগে রাজনৈতিক দল ও বিক্ষোভকারীরা সম্পত্তি রক্ষার বিষয়ে চরম সতর্ক হতে বাধ্য হবে। কারণ, প্রতিবাদের নামে ভাঙচুর চালালে তা এখন থেকে শুধুমাত্র আইনি জটিলতাই নয়, আর্থিক দেউলিয়াত্বেরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *