মুখ ঢাকা থাকলেও ধরা পড়বে খুনি! কেতন আগরওয়াল হত্যায় নতুন হাতিয়ার ‘গেইট অ্যানালাইসিস’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দিল্লি: কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার জট খুলতে এবার ফরেনসিক বিজ্ঞানের এক অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দ্বারস্থ দিল্লি পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে অপরাধীর মুখ স্পষ্ট না থাকলেও তাকে শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘গেইট অ্যানালাইসিস’ (Gait Analysis) বা হাঁটার ভঙ্গি বিশ্লেষণ পদ্ধতি।
কী এই ‘গেইট অ্যানালাইসিস’?
বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের আঙুলের ছাপ বা চোখের মণির (Iris) মতোই হাঁটার ধরন প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে অত্যন্ত স্বতন্ত্র। একজন মানুষ কীভাবে হাঁটেন, তাঁর পদক্ষেপের দৈর্ঘ্য কত, হাঁটার গতি কেমন, অথবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কীভাবে নড়াচড়া করে—এই বিষয়গুলি বিশ্লেষণ করাই হলো গেইট অ্যানালাইসিস। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৯০-৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই একজন ব্যক্তির হাঁটার ভঙ্গি অনন্য হয়।
তদন্তে কীভাবে সাহায্য করবে এই প্রযুক্তি?
কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে সন্দেহভাজনের মুখ স্পষ্টভাবে ধরা পড়েনি। তদন্তকারীরা এখন পুলিশের কাছে থাকা অপরাধীর আগের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজের সাথে ঘটনাস্থলের ফুটেজের তুলনা করবেন।
- ম্যানুয়াল বিশ্লেষণ: বিশেষজ্ঞরা সিসিটিভি ফুটেজের প্রতিটি ফ্রেম খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে সন্দেহভাজনের হাঁটার বিশেষ ধরণ মিলিয়ে দেখবেন।
- AI বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: আধুনিক এআই সফটওয়্যারের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অস্থিসন্ধির নড়াচড়া ট্র্যাক করে ত্রিমাত্রিক (3D) মডেল তৈরি করা হবে। এর ফলে খুব কম সময়ের মধ্যে নিখুঁত ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
অপরাধীরা অনেক সময় মুখ ঢেকে বা মাস্ক পরে সিসিটিভি ক্যামেরার নজর এড়ানোর চেষ্টা করে। কিন্তু নিজের হাঁটার স্বাভাবিক ভঙ্গি পরিবর্তন করা অত্যন্ত কঠিন। ব্রিটিশ পুলিশ এবং এফবিআই-এর মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থাগুলি অনেক আগে থেকেই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসছে। ভারতেও এখন বড় বড় মামলার তদন্তে এই বায়োমেট্রিক পদ্ধতি অপরাধী শনাক্তকরণের একটি অন্যতম নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হয়ে উঠছে।
তদন্তকারী অফিসারদের আশা, গেইট অ্যানালাইসিস থেকে পাওয়া বৈজ্ঞানিক তথ্য এই খুনের মামলার তদন্তে এক মোড় ঘোরানো প্রমাণ হয়ে উঠতে পারে। যদিও আইনত, এটি সরাসরি একক প্রমাণ হিসেবে নয়, বরং অন্যান্য ফরেনসিক প্রমাণের পরিপূরক হিসেবেই আদালতে পেশ করা হবে।
