সরকারি বাসে ‘ফ্রি’ যাতায়াতের জের! যাত্রী হারিয়ে পথে বেসরকারি বাস মালিকরা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ত্রিবান্ধবপুরম: সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা চালু হতেই কেরলে তৈরি হয়েছে চরম সংকট। যাত্রী কমে যাওয়ায় ব্যবসায় ব্যাপক মন্দার অভিযোগে এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বেসরকারি বাস মালিকরা। আগামী ২০ জুলাই থেকে রাজ্যের সচিবালয়ের সামনে লাগাতার বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘প্রাইভেট বাস অপারেটরস ফেডারেশন’।
কেন এই ক্ষোভ?
কেরলের ইউডিএফ (UDF) সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘ইন্দিরা গ্যারান্টি স্কিম’-এর অধীনে ‘প্রিয়দর্শিনী’ প্রকল্প চালু করেছে। এর ফলে রাজ্যের ৩,১২৫টি সরকারি বাসে মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রকল্প চালুর পর প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ৫ লক্ষ মহিলা যাত্রী সরকারি বাস বেছে নিচ্ছেন। এতেই যাত্রী সংকটে পড়েছেন বেসরকারি বাস অপারেটররা।
সংকটের প্রভাব:
- আয়ের পতন: বেসরকারি বাসে যাত্রীসংখ্যা তলানিতে ঠেকায় কর্মীদের বেতন দেওয়া দায় হয়ে পড়েছে। পালক্কাড়ের বেসরকারি বাস কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের দৈনিক মজুরি কমিয়ে মাত্র ৬০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
- কর্মীদের প্রতিবাদ: আর্থিক অনটনের জেরে ইতিমধ্যেই চালক ও কন্ডাক্টররা পথে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেছেন।
সরকারের অবস্থান:
কেরল বিধানসভাতেও এই বাস বিতর্ক নিয়ে শোরগোল পড়েছে। রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী সি পি জন স্বীকার করেছেন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বেসরকারি বাস মালিকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে মোটর ভেহিক্যাল ট্যাক্স বা গাড়ির কর ৫৯ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া বাসে বিজ্ঞাপন দিয়ে বাড়তি আয়ের পথ খোঁজা এবং রুট পুনর্বিন্যাসের পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গেও বর্তমান সরকারের আমলে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের সুবিধা চালু রয়েছে। তবে কেরলের মতো সেখানে এখনো বড় কোনো বাস ধর্মঘট বা মালিক-সরকার সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এখন দেখার, কেরল সরকার বেসরকারি মালিকদের এই ক্ষোভ কীভাবে প্রশমিত করে ‘প্রিয়দর্শিনী’ প্রকল্প সচল রাখে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারি পরিবহনের সাথে বেসরকারি বাসের এই সংঘাত কি ভবিষ্যতে ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?
