সার্জ প্রাইসিংয়ের কবলে পকেট ফাঁকা? উবর-র্যাপিডোর ভাড়া কমানোর গোপন কৌশল জেনে নিন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা: রাইড শেয়ারিং অ্যাপে ক্যাব বুক করতে গিয়ে কখনও ১৮০ টাকার ভাড়া ৩৫০ টাকা দেখে চমকে উঠেছেন? এটিই ‘সার্জ প্রাইসিং’-এর কারসাজি। উবর (Uber) বা র্যাপিডো (Rapido)-র ভাড়া কেন হুটহাট বেড়ে যায় এবং কীভাবে অল্প টাকায় যাতায়াত করবেন, তার সুলুকসন্ধান রইল এখানে।
ভাড়া কেন বাড়ে?
অ্যাপগুলোর ভাড়া মূলত চাহিদার ওপর নির্ভর করে। কোনো এলাকায় রাইডের চাহিদা বেশি থাকলে এবং সেই তুলনায় চালক কম থাকলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাড়া বাড়িয়ে দেয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—অধিক ভাড়ার প্রলোভনে চালকদের সেই এলাকায় আকৃষ্ট করা।
ভাড়া বাড়ার মোক্ষম সময়:
- অফিস টাইমে: সকালে কাজে যাওয়ার সময় বা সন্ধ্যায় ফেরার সময়।
- দুর্যোগ ও উৎসব: ভারী বৃষ্টি, উৎসব বা বড় কোনো অনুষ্ঠানের সময়।
- জনবহুল এলাকা: বিমানবন্দর, রেলস্টেশন বা বড় শপিং মলের সামনে চাহিদার তুলনায় ক্যাব কম থাকায় ভাড়া বাড়ে।
অতিরিক্ত ভাড়া এড়ানোর সহজ কৌশল:
১. কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন: যদি খুব বেশি তাড়া না থাকে, তবে ৫ থেকে ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। অনেক সময় সার্জ প্রাইসিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে যায়।
২. অ্যাপ তুলনা করুন: বুক করার আগে উবর এবং র্যাপিডো উভয় অ্যাপেই ভাড়া যাচাই করে নিন। দুই অ্যাপের ভাড়ার পার্থক্য অনেক সময় ১০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
৩. ভিন্ন স্থান থেকে বুক করুন: রেলস্টেশন বা বিমানবন্দরের ঠিক বাইরে বুক না করে, কিছুটা হেঁটে জনাকীর্ণ এলাকার বাইরে থেকে বুক করলে ভাড়া কম হতে পারে।
৪. শেয়ারড রাইড: যেখানে পুল বা শেয়ারড রাইডের সুবিধা আছে, সেখানে সেগুলো ব্যবহার করা সাশ্রয়ী।
৫. অগ্রিম ভাড়া যাচাই: বুকিং কনফার্ম করার আগে অ্যাপে দেখানো ভাড়াটি ভালো করে দেখুন। অস্বাভাবিক বেশি মনে হলে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন।
গুজব বনাম সত্যি:
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করেন যে, ফোনের ব্যাটারি কম থাকলে অ্যাপগুলো বেশি ভাড়া দেখায়। উবরের দাবি, তারা ভাড়ার ক্ষেত্রে ফোনের ব্যাটারি লেভেল ব্যবহার করে না। তাই এই দাবিটি আপাতত গুজব বলেই মনে করা হচ্ছে।
উপসংহার:
অ্যাপের ভাড়ার ওপর আপনার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, তবে আপনার সিদ্ধান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ আছে। যাতায়াতের সময় একটু পরিকল্পনা করে এবং বিভিন্ন অ্যাপের ভাড়া তুলনা করে বুক করলে মাসের শেষে আপনার বেশ কিছু টাকা সাশ্রয় হতে পারে।
