ট্রেনের এসি কোচ যেন ‘বিনামূল্যে কেনাকাটার দোকান’! ৪ বছরে উধাও ১.২৭ কোটি চাদর-তোয়ালে – এবেলা

ট্রেনের এসি কোচ যেন ‘বিনামূল্যে কেনাকাটার দোকান’! ৪ বছরে উধাও ১.২৭ কোটি চাদর-তোয়ালে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতীয় রেলের এসি কোচে যাত্রীদের আরামের জন্য দেওয়া তোয়ালে, বেডশিট বা কম্বল—অনেকের কাছেই তা এখন স্যুভেনিয়ার বা ‘স্মারক’ হয়ে দাঁড়িয়েছে! যাত্রা শেষে ট্রেনের এই লিনেন সামগ্রী নিজের ব্যাগে ভরে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা এখন চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছে। এই ‘হাত টান’-এর ফলে গত চার বছরে ভারতীয় রেলের ক্ষতির অঙ্ক আকাশছোঁয়া।

সংসদে পেশ করা কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ থেকে ২০২৪-২৫—এই চার বছরে রেলের এসি কোচ থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে ১ কোটি ২৬ লক্ষ ৮৩ হাজার ৭০৪টি লিনেন সামগ্রী। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রীকে পরিষ্কার চাদর-বালিশ দেওয়ার কাজ সামলাতে গিয়েই রেল এখন হিমশিম খাচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি চুরি গিয়েছে কী কী? রেলের দেওয়া তথ্যমতে, তালিকার শীর্ষে রয়েছে তোয়ালে। গত চার বছরে প্রায় ৫৫.৭৪ লক্ষ ফেস টাওয়েল এবং ৩৩.৭৪ লক্ষ হ্যান্ড টাওয়েল চুরি হয়েছে। এছাড়া তালিকার পিছিয়ে নেই বেডশিট (১৫.৮৭ লক্ষ) এবং পিলো কভার (১১.৬৯ লক্ষ)। একই সময়ে প্রায় ৫.২৩ লক্ষ বালিশ এবং ৪.৫৬ লক্ষ কম্বলও যাত্রীদের ব্যাগে করে ট্রেনের বাইরে চলে গিয়েছে। এক আরটিআই (RTI) রিপোর্ট অনুযায়ী, এই চুরির কারণে বেডরোল ঠিকাদারদের প্রায় ১০৪.৫১ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

রেল কেন উদ্বিগ্ন? প্রতিটি লিনেন সেট ধোয়া, জীবাণুমুক্ত করা এবং পুনরায় ট্রেনে সরবারহ করার জন্য রেলের মাথাপিছু খরচ হয় প্রায় ৪০-৫০ টাকা। বারবার নতুন সামগ্রী কিনতে হওয়ায় রেলের ব্যয়ের বোঝা ক্রমশ বাড়ছে। রেল মন্ত্রকের দাবি, কোচ অ্যাটেনডেন্টদের নজরদারি বাড়ানো এবং লিনেন বিতরণের হিসাব কড়া করা হলেও, যাত্রীদের একাংশের এই মানসিকতা বদলাচ্ছে না।

যাত্রীদের সচেতনতার অভাব রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা প্রতিটি যাত্রীর দায়িত্ব। কিন্তু এই চুরির ফলে একদিকে যেমন রেলের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি পরোক্ষভাবে সমস্যায় পড়ছেন অন্য সহযাত্রীরাও। দীর্ঘ দিন ধরে কড়া আইন ও জরিমানার কথা বলা হলেও, এই প্রবণতা পুরোপুরি রোখা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি কোচে উন্নত পরিষেবা বজায় রাখতে হলে এবং পরিষেবা চালু রাখতে হলে যাত্রীদের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কারণ, দিনের শেষে এই বিপুল ক্ষতির ভার এসে পড়ে করদাতাদের কাঁধেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *