ডার্ক ওয়েবে ভারতের বৃহত্তম পরমাণু কেন্দ্রের গোপন ব্লুপ্রিন্ট! ফাঁস বিপুল সংবেদনশীল তথ্য – এবেলা

ডার্ক ওয়েবে ভারতের বৃহত্তম পরমাণু কেন্দ্রের গোপন ব্লুপ্রিন্ট! ফাঁস বিপুল সংবেদনশীল তথ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতের বৃহত্তম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তামিলনাড়ুর কুডানকুলাম নিউক্লিয়ার প্ল্যান্টের নিরাপত্তা নিয়ে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। ডার্ক ওয়েবে এই প্ল্যান্টের বিপুল পরিমাণ গোপন নথি এবং ব্লুপ্রিন্ট ফাঁস করে দিয়েছে একটি র‍্যানসমওয়্যার হ্যাকার গোষ্ঠী।

তথ্য ফাঁসের উৎস ও রিলায়েন্সের স্বীকারোক্তি ‘World Leaks’ নামক হ্যাকার গোষ্ঠীর দাবি, তারা এই অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্যগুলি অনিল আম্বানির রিলায়েন্স গ্রুপের ডেটাবেস থেকে হাতে পেয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে কুডানকুলাম প্রকল্পের ইউনিট ৩ ও ৪-এর পরিকাঠামো নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছিল রিলায়েন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে রিলায়েন্স গ্রুপ স্বীকার করেছে যে, থার্ড-পার্টি ডেটা সেন্টার ‘Yotta’-এর হোস্ট করা একটি সার্ভার থেকে তাদের কিছু তথ্য ফাঁস হয়েছে। তারা ইতিমধ্যেই বিষয়টি ভারত সরকারকে জানিয়েছে।

কী কী তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে? ডার্ক ওয়েবে রিলায়েন্স সংক্রান্ত প্রায় ৮ লক্ষ ৫৮ হাজার ফাইলের মধ্যে ১৯ হাজার ফাইলকে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে রয়েছে:

  • ইউনিট ৩ এবং ৪-এর ভেন্টিলেশন ও কুলিং সিস্টেমের নকশা বা ব্লুপ্রিন্ট।
  • কমন কন্ট্রোল রুমের সম্পূর্ণ ফ্লোর লেআউট।
  • প্ল্যান্টের অনুমোদিত সরবরাহকারী (সাপ্লায়ার) ও ভেন্ডরদের তালিকা।
  • যৌথ পরিদর্শনের রিপোর্ট, যন্ত্রপাতির মূল্যায়ন এবং বিমা সংক্রান্ত গোপন কাগজপত্র।
  • একটি নথিতে এমনও উল্লেখ আছে যে, ইউনিট ৩ বা ৪-এ কোনও সন্ত্রাসবাদী হামলা হলে ১১ কোটি ২০ লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিমা সুরক্ষা মিলবে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি কতটা? নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ (NTI)-এর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নথিগুলি আসল হলে তা প্ল্যান্টের নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্বস্তির বিষয় হল, মূল নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টরের নকশা (যা রাশিয়ার রোসাটম সরবরাহ করেছে) ফাঁস হয়নি। তবে সহায়ক পরিকাঠামো ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য ব্যবহার করে যে কোনও হ্যাকার বা হামলাকারী প্ল্যান্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সহজেই খুঁজে নিতে পারে।

তদন্ত ও পদক্ষেপ এই ঘটনার পরেই ভারতের পরমাণু বিদ্যুৎ সংস্থা ‘NPCIL’ রিলায়েন্সের কাছে জবাবদিহি চেয়েছে। পাশাপাশি, দেশের শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘CERT-In’ গোটা বিষয়টির তদন্ত শুরু করেছে। ডেটা সেন্টার ‘Yotta’ জানিয়েছে, মে মাসের শেষেই তারা সার্ভারে সন্দেহজনক কার্যকলাপ লক্ষ্য করে তা বন্ধ করেছিল, তবে তার আগেই বেশ কিছু তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যায় বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এর আগেও ২০১৯ সালে কুডানকুলাম প্ল্যান্টের প্রশাসনিক নেটওয়ার্কে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের ম্যালওয়্যার হামলা হয়েছিল, যা ভারতের পরমাণু নিরাপত্তার জন্য ক্রমাগত সাইবার হুমকির ইঙ্গিত দেয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *