“চিকিৎসার বদলে শুধুই প্রচার!” বিনা চিকিৎসায় হাত হারাল খুদে, কাঠগড়ায় অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চিকিৎসার নামে শুধুই মিথ্যা আশ্বাস আর প্রচার! এমনই এক মারাত্মক অভিযোগ উঠল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের বিরুদ্ধে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় বিষ্ণুপুরের এক আড়াই বছরের শিশুর ডান হাত চিরতরে কেটে বাদ দিতে হল। এই ঘটনায় শোকাহত পরিবার ইতিমধ্যেই আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন।
সাহায্যের আশায় সেবাশ্রয়ে পরিবার জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুর থানার বোরহানপুর গ্রামের বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন মান্না ও রুমা মান্না চরম আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। তাঁদের আড়াই বছরের মেয়ে কৃতি মান্নার ডান হাতে গুরুতর সমস্যা ছিল এবং দিল্লির AIIMS-এ তার চিকিৎসা চলছিল। মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে দিশেহারা পরিবার গত ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি পৈলানের একটি ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে সাহায্যের জন্য ছুটে যান।
কী আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল? পরিবারের দাবি, ওই শিবিরে খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। তিনি শিশুটির চিকিৎসা এবং ভবিষ্যতের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দেন। এমনকী, কৃতির ছবি ‘নিঃশব্দ বিপ্লব’ নামের একটি বইতেও ছাপানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের মেয়েকে শুধুমাত্র প্রচারের কাজেই ব্যবহার করা হয়েছে।
আশ্বাস সার, পরিণতি মর্মান্তিক অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতির পর দীর্ঘ ৬ মাস কেটে গেলেও চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থাই করা হয়নি। ক্রমশ শিশুটির অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বাধ্য হয়ে বেঙ্গালুরুর এক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় প্রাণ বাঁচাতে কৃতির ডান হাত কেটে বাদ দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকেরা।
ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটির বাবা চিত্তরঞ্জন মান্না বলেন, “সেবাশ্রয় শিবিরে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাসে আমরা ভরসা করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমাদের মেয়ের হাতটাই কেটে বাদ দিতে হলো।” মা রুমা মান্নার অভিযোগ, “আমার মেয়ের ডান হাত সারা জীবনের জন্য হারিয়ে গেল। এর জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেবাশ্রয় শিবিরই দায়ী। আমরা আইনের দ্বারস্থ হয়েছি এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।”
বিতর্কে সেবাশ্রয় প্রসঙ্গত, সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে এর আগেও ভুরিভুরি দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। ইতিমধ্যেই এই শিবিরের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরও এই বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
